নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দফতরে চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে এ ধরনের আইনবহির্ভূত ও অবমাননাকর ব্যবহার বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত দুটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমত, সব সচিবালয় ও সরকারি দফতরে জাতীয় পতাকার বেআইনি ব্যবহার বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে নোটিফিকেশন জারি করতে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে একজন জুডিশিয়াল অফিসার, একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকার এ রিট আবেদন করেন। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
শুনানিতে জাতীয় পতাকার যথাযথ ব্যবহার নিয়ে ১৯৭২ সালের আইন ও বিধিমালার লঙ্ঘনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন রিটকারীর আইনজীবী।
আদেশের পর আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা রেখে বসতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এই চর্চা ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ এবং পতাকা বিধিমালার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও মাপ রয়েছে। নির্দিষ্ট ১৫ ধরনের ব্যক্তি তাঁদের বাসস্থানে এবং আট ধরনের বিশেষ ব্যক্তি, যেমন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার, তাঁদের গাড়ি ও জলযানে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী। এর বাইরে ব্যক্তিগত দফতরে চেয়ারের পেছনে বা সোফার পাশে পতাকা ঝুলিয়ে রাখা জাতীয় পতাকার প্রতি অবমাননা।
শুনানিতে আইনজীবী আরও বলেন, পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। সার্বক্ষণিক পতাকা টানিয়ে রাখার কোনো বিধান নেই। এমনকি পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং পোল বা স্ট্যান্ডের উচ্চতাও আইন দ্বারা নির্ধারিত। কিন্তু ব্যক্তিগত দফতরে এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না।
আইনজীবী জানান, যারা আইনত জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী, তাঁরাও দফতরে চেয়ারের পেছনে পতাকা রাখতে পারবেন কি না, নবগঠিত কমিটি সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট জাতীয় পতাকার অনিয়মতান্ত্রিক ও বেআইনি ব্যবহার বন্ধে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ লঙ্ঘন করে সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকার অনিয়মতান্ত্রিক ও বেআইনি উত্তোলন, প্রদর্শন ও ব্যবহার বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আরএনবি/এআর