Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

একরাম হত্যা: ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে ব্রিগেডিয়ার মিফতাহকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেলে আজ এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৮ সালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ২৬ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পাশাপাশি অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা তিনজনকে হাজির করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আজ শুনানির দিন ধার্য ছিল।

এই মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে গত ২৭ জুলাই রাতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) নিশ্চিত করেছিল। এ ছাড়া অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকায় আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ ও মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হয়। 

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুলকে তুলে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে গভীর রাতে মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাটিকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার নাটক সাজানো হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের সময়কার একটি অডিও রেকর্ড সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক, অপহরণ, নির্যাতন এবং হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরএনবি/এফএ