নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
বেসরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে নিযুক্ত ব্যক্তিদের ‘মালিক’ হিসেবে গণ্য করে ‘শ্রমিক’-এর সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া কেন অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস. এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৪৯)(খ) এবং ধারা ২(৬৫)-এর শর্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এই রুল জারি করেন আদালত।
আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রুলে জানতে চাওয়া হয়, শ্রম আইনের এই বিধানগুলো কেন সংবিধানের ৭, ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৪ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তার সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ কাওছার, মাকসুদুর রহমান এবং মারুফ হাসান তমাল।
রিট আবেদনে বলা হয়, শ্রম আইনের বিদ্যমান সংজ্ঞার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনামূলক বা তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ‘শ্রমিক’ হিসেবে গণ্য হতে পারছেন না। ফলে তারা শ্রম আইনের অধীনে আইনি সুরক্ষা, বিভিন্ন সুবিধা ও প্রতিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন। চাকরিসংক্রান্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কোনো উপযুক্ত আইনি ফোরাম খুঁজে পাচ্ছেন না।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রায় ৬৫ থেকে ৮০ লাখ বেসরকারি কর্মী এই বিধানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা মোট কর্মশক্তির ১০ শতাংশেরও বেশি। বিপুলসংখ্যক নাগরিককে আইনি সুরক্ষার বাইরে রাখা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের সমান সুরক্ষা ও আশ্রয় লাভের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
রিটকারীরা বলছেন, বেসরকারি খাতের একটি বড় শ্রেণিকে শ্রম আদালতের এখতিয়ারের বাইরে রেখে দেওয়ার এই বিধান অসাংবিধানিক।
আরএনবি/এএম