নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।
আগামী সোমবার (২৪ আগস্ট) এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন।
হাইকোর্টের বিশেষ এ বেঞ্চে টানা ১৮ দিন শুনানির পর রায়ের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেছেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে সর্বশেষ শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসরুল হক, আইনজীবী মাসুদ হাসান দোলন ও শিশির মনিরসহ অন্যান্যরা।
শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘সম্প্রতি রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর মাননীয় প্রধান বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলোর শুনানি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮ দিন শুনানির পর আজ নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শেষ হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছে বলেছি যে, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হলে তাকে সাজা দেওয়া ঠিক না। রাষ্ট্র শুধু সরকার বা এক পক্ষকে রিপ্রেজেন্ট করে না, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা চেয়েছি সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষী ব্যক্তি যেন শাস্তি পায় এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন সাজা না পায়।’
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নানা রকম ন্যারেটিভ (বয়ান) তৈরি হয়েছিল। আমরা আদালতকে বলেছি, কেউ যেন 'মিডিয়া ট্রায়ালের' শিকার না হন। প্রকৃত অপরাধ তথ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রমাণিত হলেই যেন সাজা হয়।’
আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হয় না। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের এখতিয়ার রয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে যাবতীয় তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোনার জন্য গত ১০ জুন এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
গত ২৮ জুলাই এই বেঞ্চে নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করায় নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
আগুনে দগ্ধ নুসরাত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এই ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য নথিপত্র হাইকোর্টে আসে এবং আসামিরা জেল আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আগামী সোমবার মামলাটির চূড়ান্ত রায় জানা যাবে।
আরএনবি/এমআই