Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

মৃত্যুসনদ না দিয়ে সাদা কাপড় ধরিয়ে দেন ডাক্তার: ট্রাইব্যুনালে পিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছেলে শাহরিয়ার হোসেন রোকনকে হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন তার পিতা মো. মনির হোসেন।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া এই পিতা অভিযোগ করেন, ‘হাসপাতালে ছেলের মৃত্যুসনদ চাইলেও চিকিৎসকরা তা দেননি, উল্টো সাদা কাপড় ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত লাশ সরিয়ে নিতে বলেন।’

বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ‘১৯ জুলাই রোকন পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চকবাজার থেকে মোহাম্মদপুরে এসেছিল। পথে ময়ূর ভিলা এলাকায় পুলিশ ও হেলমেটধারী আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের গুলির মুখে পড়ে সে। ভাগনেদের কাছে খবর পেয়ে মমতাজ ট্রমা হাসপাতালে গিয়ে দেখি রোকন স্ট্রেচারে পড়ে আছে। ডাক্তাররা দ্রুত তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিতে বলেন।’

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়েই খুলে ফেলেন এবং বলেন, ‘আপনার ছেলে আর নেই’। আমি মৃত্যুসনদ চাইলে ডাক্তার ধমক দিয়ে বলেন, তারা সনদ দিতে পারবেন না। এরপর একটি সাদা কাপড় দিয়ে বলেন- শরীর ঢেকে নিয়ে চলে যান। পথে কেউ জিজ্ঞেস করলে রোকন গুলিতে মারা গেছে, তা বলতে নিষেধ করেন তারা।’

ছেলের দাফনের বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, ‘মোহাম্মদপুর এলাকায় তখনো গোলাগুলি চলছিল। রিকশায় করে লাশ নিয়ে আসার সময়ও তারা আওয়ামীলীগ ও হেলমেটধারীদের তাণ্ডব দেখেছেন। পরে রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রোকনকে দাফন করা হয়।’

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মনির হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামীলীগ সরকারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমি তাপস, নানক, সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, বিপ্লব কুমার সরকারসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের শাস্তি চাই।’

এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন।

৫৪ বছর বয়সী মনির হোসেন পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তার বড় ছেলে শাহরিয়ার হোসেন রোকনও পিতার সঙ্গে ব্যবসা করতেন।

গত ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলা এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রোকন।

এই মামলায় অভিযুক্ত ২৮ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

তারা হলেন- নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক ও যুবলীগ কর্মী ফজলে রাব্বি।

তবে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র তাপসসহ বাকি ২৪ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

আরএনবি/এএম