Dhaka Mail Logo

অটোমোবাইল

গাড়ির এসি চালু করলেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে? জানুন সমাধান

অটোমোবাইল ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

প্রচণ্ড গরমে গাড়ির ভেতর ঠান্ডা রাখতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির কোনো বিকল্প নেই। ঋতু যাই হোক না কেন, যাতায়াতের সময় গাড়ির এসি প্রায় সব সময়ই কাজে লাগে। তবে অনেক সময় এসি চালু করতেই তা থেকে অদ্ভুত দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে, যা পুরো যাত্রাকেই অস্বস্তিকর করে তোলে। বেশিরভাগ মানুষই এই বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু এর আসল কারণগুলো জেনে খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

গাড়ির এসি থেকে দুর্গন্ধ বেরোনোর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ইভাপোরেটর কয়েলে আর্দ্রতা জমে থাকা। এসি চালু থাকলে গরম বাতাস ঠান্ডা ইভাপোরেটরের সংস্পর্শে এসে জলকণায় পরিণত হয়, যাকে ঘনীভবন বা কনডেনসেশন বলা হয়। সাধারণত এই পানি একটি ছোট পাইপের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে যায়, কিন্তু কোনো কারণে সেই পাইপ বন্ধ হয়ে গেলে পানি ভেতরেই জমে থাকে। সেই আর্দ্র পরিবেশে ধীরে ধীরে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মায়, যার ফলেই এসি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

এর আরেকটি বড় কারণ হলো কেবিন বাতাস পরিশ্রুতক বা এয়ার ফিল্টার নোংরা কিংবা খারাপ হয়ে যাওয়া। এই ফিল্টারের কাজ হলো বাইরের বাতাস পরিষ্কার করে গাড়ির ভেতরে পাঠানো। কিন্তু কিছুদিন ব্যবহারের পর এতে ধুলোবালি এবং বিভিন্ন সূক্ষ্ম কণা জমে যায়। দীর্ঘদিন ফিল্টার পরিবর্তন না করলে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং আর্দ্রতা ও ময়লা জমে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। শুধু দুর্গন্ধই নয়, এই নোংরা ফিল্টার গাড়িতে থাকা যাত্রীদের স্বাস্থ্যের পক্ষেও বেশ ক্ষতিকর, বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে।

অনেক সময় গাড়ির ভেতরের অপরিষ্কার পরিবেশও এই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সিটের নিচে বা গাড়ির কোনো কোণে যদি খাবারের টুকরো দীর্ঘদিন পড়ে থাকে, তবে সেখান থেকেও দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে এবং এসি চালু করলেই সেই গন্ধ পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে ভেজা কার্পেট বা গাড়ির ভেজা অভ্যন্তরীণ অংশও আর্দ্রতার কারণে দুর্গন্ধের উৎস হতে পারে। তাই গাড়ির ভেতর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

উপরের সবকিছু পরীক্ষা করার পরও যদি এসি থেকে দুর্গন্ধ আসে, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় এসি থেকে পেট্রোল বা কোনো রাসায়নিকের মতো গন্ধ বের হলে তা ইঞ্জিন তেল বা ব্রেক ফ্লুইড লিকের ইঙ্গিত হতে পারে। আবার পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে তা শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক তারের সমস্যা বা মোটরের ত্রুটির কারণেও হতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব অভিজ্ঞ মিস্ত্রি দিয়ে গাড়ি পরীক্ষা করানো উচিত, কারণ এটি আপনার নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

যদি দুর্গন্ধের কারণ শুধুই আর্দ্রতা বা ছত্রাক হয়, তবে এই সমস্যার সমাধান খুব একটা কঠিন নয়। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর কেবিন এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন করা। এ ছাড়া গাড়ির এসি সম্পূর্ণ বন্ধ করার আগে কয়েক মিনিট শুধু ফ্যান বা পাখা চালু রাখুন, এতে ইভাপোরেটরের ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা শুকিয়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জন্মানোর সুযোগ কমে যায়। এতেও যদি দুর্গন্ধ না কমে, তবে সারাইখানায় গিয়ে ইভাপোরেটর কয়েল ভালোভাবে পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া দরকার। সব মিলিয়ে গাড়ির এসি থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সময়মতো ফিল্টার বদলানোর মাধ্যমেই এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

এজেড