Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

আছিয়া হত্যা: অনুপস্থিত দণ্ডিতের আইনজীবী, ‘স্টেট ডিফেন্স’ নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের পক্ষে লড়তে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে হিটু শেখের জন্য ‘স্টেট ডিফেন্স’ হিসেবে নিয়োগ দেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

বিগত দুইদিন (মঙ্গলবার ও বুধবার) শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন দণ্ডিত আসামির পক্ষের আইনজীবী। তিনি উপস্থিত না থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, হিটু শেখের আগের আইনজীবী এই মামলা পরিচালনায় অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিয়েছেন। পরে আজ দণ্ডিতের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিশেষ এ বেঞ্চ।

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। তার সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।

সহকারী অ্যাটর্নি-জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় হতে পারে।

গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হিটু শেখ নিহত শিশুটির বড় বোনের শ্বশুর। মামলার অপর তিন আসামি খালাস পেলেও নিয়ম অনুযায়ী হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

মামলার তথ্য বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ শিশুটি মারা যায়।

নারী ও শিশু নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ও নির্মম ঘটনাগুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই শুনানি চলছে।

আরএনবি/এএম