নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
রাজধানীর রায়েরবাগের একটি মাদরাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার দুই শিক্ষকের মধ্যে হাফেজ মো. জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। অপর আসামি হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদ নিজেকে শিশু দাবি করায় তার রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়নি। এ বিষয়ে আগামী ১৮ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আব্দুস ছবুর।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট দুপুরে রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার ওই মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে মো. নাঈম শেখ (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে দুই শিক্ষককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পরে ওইদিন রাতেই মাদরাসা থেকে হাফেজ মো. জাকারিয়া ও হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কদমতলী থানার উপপরিদর্শক আমজাদ হোসেন দুই আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনর রশীদ খান আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে জাকারিয়ার আইনজীবী ইমদাদুল আলম রিমান্ড বাতিল করে তার জামিনের আবেদন করেন। অপর আসামি জোবায়ের আহম্মেদের আইনজীবী তাকে শিশু দাবি করায় তার রিমান্ডের বিষয়ে এদিন শুনানি হয়নি। পরে আদালত জাকারিয়ার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জোবায়েরের বিষয়ে শুনানির জন্য ১৮ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন কারণে দুই শিক্ষক নাঈমকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নাঈম তার মাকে জানিয়েছিল। পরে নাঈমকে মাদরাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন তার মা নাজমা বেগম। তবে আসামিরা শিক্ষার্থীকে মাদরাসা থেকে ছাড়পত্র দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, নাঈম ওই মাদরাসা পড়তে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় শিক্ষকেরা তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে যান। ঘটনার দিন সোমবার দুপুরে নাঈম আর মাদরাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানায়। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে নাঈমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার মরদেহ মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে রেখে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এম/এএম