নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
শেরপুরে আদিবাসী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় কান্তি মারাক নামে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দেওয়া রায় প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্ট। সাজা কার্যকরের প্রায় পাঁচ বছর আগে আসামির মৃত্যু হওয়ায় সই করার আগে রায়টি প্রত্যাহার (রিকল) করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রায়টি প্রত্যাহারের আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার সব কার্যক্রম বাতিল (অ্যাবেটেড) ঘোষণা করা হয়।
আসামি কান্তি মারাক রায় ঘোষণার প্রায় পাঁচ বছর আগেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মারা যান। তিনিই মামলাটির একমাত্র আসামি।
আদালত সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু রায়টি ঘোষণার পর জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কান্তি মারাক ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। আসামির মৃত্যুর তথ্য গোপন থাকায় এই ‘মিস টাইমিং’ হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘আসামি যে ২০২১ সালে মারা গেছেন, তা আদালত জানতেন না। আমরা বিষয়টি জানার পর একটি আবেদন করি, যাতে স্বাক্ষরবিহীন রায়টি রিকল (প্রত্যাহার) করা হয়। আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে রায়টি প্রত্যাহার করেছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী মামলার প্রসিডিংস ‘অ্যাবেটেড’ বা বাতিল ঘোষণা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আসামির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং জেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো মৃত্যু সনদের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এসব আইনি নথি আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন।’
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিশেষ পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক ইমাম। তিনি বলেন, ‘কারাগারে কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু হলে তা যেন দ্রুত হাইকোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস, সলিসিটর অফিস এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি অফিসে জানানো হয়- সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলারও ইস্যু করা হয়েছে।’
আদিবাসী শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী থানার বাসিন্দা ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে অভিযোগ করা হয়। সেদিন বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে প্রতিবেশীর কান্তি মারাকের ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ থাকা হাফ প্যান্ট পাওয়া যায়। পরে আসামির বসতবাড়ির পাশে পানি সেচের ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মৃতদেহ।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা কান্তি মারাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা করেন গ্রেফতারের পর কান্তি মারাক আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। এ মামলায় বিচারিক আদালতে বিচার শেষে ২০১৯ সালে কান্তির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। তা অনুমোদনের জন্য ওই বছরেই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে উচ্চ আদালতে আসে। কিন্তু এরমধ্যেই ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি কান্তি মারাকের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করে কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘কান্তি মারাকের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। দুইপক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। আসামি তিন বছর আগেই মারা যাওয়ায় এখন সেই রায়ের আর কোনো কার্যকারিতা থাকল না। এ কারণে মামলার সব কার্যক্রম বাতিল করেছেন আদালত।’
আরএনবি/এএম