Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

ওবায়দুল কাদের পলিটিক্যাল ক্লাউন, টিকটকার: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ‘পলিটিক্যাল ক্লাউন’ বা রাজনৈতিক জোকার এবং ‘টিকটকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। 

তিনি বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরের মতো একজন ‘জোকারকে’ সাধারণ সম্পাদক করে আওয়ামী লীগ যেমন বিপর্যস্ত হয়েছে, তেমনি তার উসকানিমূলক বক্তব্যে দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

একইসঙ্গের জুলাই আন্দোলনে উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবি জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ এ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ তিন নেতার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী। 

এদিন ওবায়দুল কাদেরের রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক জোকার বা পলিটিক্যাল ক্লাউন। কারণ তার বিভিন্ন সময়ের ডায়ালগ ও কথাবার্তা কখনোই কোনো রাজনৈতিক নেতাসুলভ নয়। তিনি একজন টিকটকার হিসেবেও পরিচিত। তার বক্তব্যকে টিকটকাররা ব্যবহার করে ফেসবুকে নানা রকমের পোস্ট দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার বক্তব্যগুলো এতটাই হাস্যকর যে, এরকম একটা জোকারকে একটা দলের সাধারণ সম্পাদক করে দলটাকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। শুধু দল নয়, তার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে সারা বাংলাদেশে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছে এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।’

25
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

জুলাই আন্দোলনে ওবায়দুল কাদেরের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি জানান, ১১ জুলাই তার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের পরই ছাত্রলীগ-যুবলীগ সহিংস হয়ে ওঠে। তিনি ‘আমার ছাত্রলীগই যথেষ্ট’ এবং ‘শুট অন সাইট’ (দেখা মাত্র গুলি)-এর মতো নির্দেশ দিয়েছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সারাদেশে পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ প্রযোজনায় ৩ লাখ ৫ হাজারেরও বেশি গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। কেবল ঢাকা শহরেই ৯৫ হাজারের বেশি গুলি ছোঁড়া হয়েছে। এতে ৬৬ এমএম রাইফেল, ৭.৬২ গুলি, এসএমজি এবং এলএমজির মতো লেথাল উইপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।’

এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অভিযুক্ত করা হয়েছে মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে নূর তাপস, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সন্দেহাতীতভাবে এই মামলাটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এই সাতজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছদ্মাবরণে প্রকৃতপক্ষে ছিলেন দুষ্কৃতকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী। তাদের ব্যক্তিগত দায় এবং সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছি। পাশাপাশি তাদের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ চেয়েছি।’

এছাড়া সম্প্রতি সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের এক প্রতিবেদনে ‘অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটকে রাখা’ সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের এখানে বেআইনিভাবে কাউকে আটক রাখা হয়নি। যাদের আটক রাখা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই করা হয়েছে।’

প্রসিকিউশনের পক্ষে এই মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার, শহীদ পরিবারের সদস্য ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য আদালত গ্রহণ করেছেন। এই মামলায় আততায়ীর হাতে নিহত ওসমান হাদিও জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এর আগে গত পাঁচ দিন ধরে এই মামলায় প্রসিকিউটর গাজী মোনোয়ার হোসেন তামিম আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করেন। 

বুধবার সমাপনী যুক্তি উপস্থাপনে প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ, আব্দুস সোবহান তরফদারসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএনবি/এএইচ