Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

সাজাপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বণ্টন নীতিমালা তৈরির আবেদন গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের প্রক্রিয়া নির্ধারণে একটি নীতিমালা তৈরির আবেদন গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়াটি রুলস অব প্রসিডিউরে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিতে চিফ প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আবেদন জানানো হলে ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এই নির্দেশনা দেন।

এদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অঙ্গ সংগঠনের শীর্ঘ সাত নেতার বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সমাপনী যুক্তিতর্কে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ আবেদন করেন। 

প্রসিকিউশনের যুক্ততর্ক শেষে এদিন ওবায়দুল কাদেরসহ তিন নেতার পক্ষে যুক্ততর্ক উপস্থাপন শুরু করেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম। আগামীকালও (বৃহস্পতিবার) আসামিদের পক্ষে এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন চলবে।

সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে আসা ছয়টি রায়ে আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানার আদেশ থাকলেও আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

আইনি জটিলতার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের এখান থেকে ছয়টি জাজমেন্ট হয়েছে। সবকটি রায়েই সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানার আদেশ রয়েছে। কিন্তু সেই আদেশগুলো এখন পর্যন্ত আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কারণ আমাদের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩ বা রুলস অব প্রসিডিউরে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা জরিমানার বিধান থাকলেও, তা আদায়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াটি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ আদায়ের বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়াটি রুলস অব প্রসিডিউরে না থাকায় আমরা আজ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আমরা বলেছি, দেশে প্রচলিত ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৮৬ ধারায় জরিমানা আদায় ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের যে প্রক্রিয়া আছে, সেটি যাতে এখানে ‘মিউটাটিস মিউট্যান্ডিস’ (প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ) অনুসরণ করে প্রয়োগ করা যায়।’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনাল তাদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বিচারপতি মহোদয়গণ এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় একত্রে বসে রুলস অব প্রসিডিউরের এই অংশটুকু সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে ফিন্যান্সিয়াল অফেন্স, জরিমানার অংশ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়াটি যাতে কার্যকর করা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

খুব শিগগিরই দুই ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের সঙ্গে সমন্বয় করে রুলস অব প্রসিডিউরের অসঙ্গতিগুলো দূর করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আমিনুল ইসলাম।

এর ফলে সাজাপ্রাপ্তদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি কতটুকু এবং কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের বা তাদের পরিবারকে দেওয়া হবে, তা ভবিষ্যতে রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।

আরএনবি/এএইচ