নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের আপত্তি উপেক্ষা করে পাহাড় ও গাছ কেটে এই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় এই আদেশ আসে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারিও করেন উচ্চ আদালত। রুলে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনের ভেতর এলজিইডির সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ এবং তা রোধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
সেই সঙ্গে বনের ভেতর এরই মধ্যে তৈরি করা সড়কের পাকা অংশ কেন অপসারণ করা হবে না এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কেন নেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক ও কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিটের পক্ষের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় মহেশখালীতে ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমির ভেতরে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বনের অসংখ্য গাছপালা ও পাহাড় কেটে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে আসছিল এলজিইডি।
তিনি আরও জানান, ১৯৫৭ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে মহেশখালী উপজেলার ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমিকে সংরক্ষিত বনভূমি ঘোষণা করা হয়। বন আইন ও ২০২৬ সালের বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, বন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা বনের ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয়। এছাড়া সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
আরএনবি/এএম