Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

জুলাই আন্দোলন চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়।

এ দিন শুনানিতে প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম এই অপরাধকে একটি ‘সিস্টেম ক্রাইম’ হিসেবে অভিহিত করে প্রায় ১৬৫০ পৃষ্ঠার নথিপত্র ও প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল সেটি একটি সিস্টেম ক্রাইম। এটা সিস্টেম্যাটিক্যালি এবং ওয়াইডস্প্রেডলি (পরিকল্পিত ও ব্যাপকভাবে) সারাদেশে সংঘটিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই এই ধরনের অপরাধ করে। যার পটভূমি হিসেবে আমরা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের শাসনকালের তথ্য-উপাত্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি।’

মামলার আসামিরা হলেন-সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তবে, আসামিরা বর্তমানে সবাই পলাতক রয়েছেন।

যুক্তিতর্ক চলাকালীন প্রসিকিউশন থেকে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ সম্বোধন করে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার সূত্র ধরে ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ‘লেলিয়ে’ দিয়েছিলেন।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘তাদের এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে সাধারণ ছাত্রদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং অকাতরে অনেকগুলো প্রাণ বিসর্জন দিতে দেখলাম— সেই চিত্র আদালতের সামনে তুলে ধরেছি।’

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে তারা দেশজুড়ে হত্যা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ।

এর আগে গত ২ আগস্ট এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়।

তারও আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-২।

আজ মঙ্গলবার প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আরও কয়েক দিন চলতে পারে।

আরএনবি/এমআই