নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে নিয়োগের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দেন।
রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক স্বাক্ষরিত এক আদেশে সভাপতি পদে পরিবর্তন আনা হয়। ব্যারিস্টার শিহাবের স্থলে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের অগোচরে এবং মেয়াদের মাঝপথে সভাপতির এই পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এর প্রেক্ষিতে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হলেও কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।
রিট পিটিশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের সচিব, আইন সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কলেজ পরিদর্শক এবং মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত সাবিনা সিদ্দিকা কলেজটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আরএনবি/এমআর