Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

পদ্মা সেতু রক্ষায় ১৯ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং পদ্মা সেতুকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিবসহ সরকারের ১৯ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই ‘জাস্টিস ডিমান্ড নোটিশ’ পাঠান।

নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ফসলি জমি ও নদীর তীর রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক, সড়ক ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক, আইন সচিব (বিচার ও লেজিসলেটিভ), ভূমি সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, আইজিপি এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান।

এছাড়া মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, কুষ্টিয়া ও পাবনার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকেও এই নোটিশের আওতায় আনা হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়, পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে। এতে প্রতি বছর শরীয়তপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরসহ নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শত শত হেক্টর ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পদ্মা সেতুর পিলারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে, যা মেগা প্রকল্পটিকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, আইন অনুযায়ী সেতু, বাঁধ বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

এর আগে গত ৮ জুলাই ‘মওসু’'-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু ১০ দিন পার হওয়ার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান আইনজীবী ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘বালু উত্তোলনের ফলে শুধু পরিবেশ ও কৃষির ক্ষতি হচ্ছে না, বরং পদ্মা সেতুর মতো রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। অবিলম্বে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।’

আরএনবি/এএইচ