Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

আয়নাঘর কোনো নির্দিষ্ট স্থান নয়, কেবল একটি ধারণা: আসামিপক্ষের আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

রাজধানীর উত্তরার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের-১ (র‍্যাব)-এর কার্যালয়ে ‘আয়নাঘর’ বা টিএফআই (টাস্ক ফোর্সেস ইন্টারোগেশন) সেল পরিদর্শন শেষে ভিন্নমত পোষণ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। 

তারা বলছেন, ‘আয়নাঘর’ বলতে কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানের অস্তিত্ব নেই এবং এই সংক্রান্ত আইনি ব্যত্যয় ঘটলে তা বড়জোর বিভাগীয় ব্যবস্থা হতে পারে, কিন্তু ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ নয়।

শনিবার (১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে পরিদর্শনে অংশ নেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরাও। 

এদের মধ্যে টিএফআই সেলে গুম সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৭ র‍্যাব কর্মকর্তার পক্ষে মো. তবারক হোসেন ভুঁইয়া, অন্য তিন কর্মকর্তার পক্ষে এ বি এম হামিদুর মেজবা এবং এই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

পরিদর্শন শেষে আইনজীবী তবারক হোসেন ভুঁইয়া  বলেন, ‘চিফ প্রসিকিউটর যা-ই বলুন, আমরা আজ কোনো ‘আয়নাঘর’ দেখতে আসিনি। আমরা এসেছি তথাকথিত টিএফআই সেল দেখতে। টিএফআই কোনো সুনির্দিষ্ট জায়গা নয়, এটি একটি কনসেপ্ট বা ধারণা।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পত্র অনুযায়ী টিএফআই টিম গঠিত হয়েছিল, যেখানে সিআইডি, এসবি ও ডিজিএফআইয়ের মতো বিভিন্ন সংস্থা ছিল। র‍্যাব সেখানে কেবল সাচিবিক (সেক্রেটারিয়াল) দায়িত্ব পালন করত। ফলে টিএফআই বলতে নির্দিষ্ট কোনো ঘর বোঝায় না, এটি সারাদেশের যেকোনো জায়গায় হতে পারে।’

আসামিদের নির্দোষ দাবি করে তবারক হোসেন বলেন, ‘আইনে ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ (দোষি প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া) নীতি বলে একটা কথা আছে। প্রমাণ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তিনি (চিফ প্রসিকিউটর) কীভাবে একে ‘নির্মম টর্চার সেল’ বললেন আমি জানি না। এটি আদালতের প্রমাণের বিষয়।’

সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমি মামলার যে নথিপত্র দেখেছি, তাতে সব আসামিকে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

এছাড়া প্রত্যেকটি সামরিক বা নিরাপত্তা ইউনিটে তদন্তের স্বার্থে ছোট সেল থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই সময়ে আসামি পক্ষের অপর আইনজীবী এ বি এম হামিদুর মেজবা ট্রাইব্যুনালের এই মামলা পরিচালনার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

তিনি বলেন, ‘যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাউকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পাঠাতে ব্যর্থ হন, তবে সেটির জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা (ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং) নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ (ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি) হিসেবে গণ্য হতে পারে না।’

হামিদুর মেজবা অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশন পক্ষের সঙ্গে মানবাধিকার কর্মীরা থাকলেও আসামি পক্ষের পাশে কোনো মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি ছিল না। 

তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার মানে কেবল সাজা দেওয়া নয়, বরং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন সাজা না পায় তা নিশ্চিত করা। যে ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সঙ্গে এই কক্ষগুলোতে আটকে রাখার কোনো যোগসূত্র বা আলামত প্রসিকিউশন পক্ষ এখনো দিতে পারেনি।’

তিনি আরও যোগ করেন, নথিপত্রে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আজকের পরিদর্শনের বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। তবে এই পরিদর্শন তাদের প্রতিরক্ষা (ডিফেন্স) কেস সাজাতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে এদিন বেলা ১১টায় র‍্যাব-১ এর কার্যালয়ে অবস্থিত আলোচিত বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ও প্রসিকিউশন দল।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্দিশালার বিভিন্ন কক্ষ, অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। 

এছাড়া চিফ প্রসিকিউটর  আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও অংশ নেন।

আরএনবি/এএইচ