Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

সব আদালত প্রাঙ্গণকে ‘শতভাগ ধূমপানমুক্ত’ ঘোষণার দাবি, লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত ও বার প্রাঙ্গণকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এই নোটিশ পাঠান। 

আইন সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (২০১৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী জনসমাগমস্থলে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। 

সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং সংশ্লিষ্ট বার প্রাঙ্গণ আইনগতভাবে ‘জনসমাগমস্থল’ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আইনের কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন নোটিশে উল্লেখ করেন, আদালত প্রাঙ্গণের করিডোর, সিঁড়ি, অপেক্ষমাণ স্থান ও বার প্রাঙ্গণে নির্বিচারে ধূমপানের ফলে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। এতে বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, আদালত হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। অথচ আইন বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতেই যদি প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করে ধূমপান চলতে থাকে, তবে তা বিচার ব্যবস্থার মর্যাদা ও আইনের প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করে।

এতে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবনের অধিকার’ এবং ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ’ করার সাংবিধানিক 

বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (FCTC)-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে দাবি জানানো হয় যে, সাম্প্রতিক আইন সংশোধনের ফলে জনসমাগমস্থলে ‘নির্ধারিত ধূমপান এলাকা’ রাখার কোনো সুযোগ নেই। তাই সমগ্র বিচার বিভাগকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করে দৃশ্যমান সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এর আগে ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল একই দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আরএনবি/এআরএম