Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

ড্যাফোডিলের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী সেশন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

দেশের ভবিষ্যৎ আইনজীবী, আইন গবেষক ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদানকারী তরুণ প্রজন্মকে বাস্তবভিত্তিক আইন শিক্ষা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং পেশাগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ‘আমরা নারী’র উদ্যোগে এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালযয়ের সহযোগিতায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমধর্মী ‘Educational Visit & Exclusive Knowledge-Sharing Session’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট কমপ্লেক্সস্থ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে তারা দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং বিচার প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেশের সংবিধান, অ্যাটর্নি জেনারেলের সাংবিধানিক দায়িত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসনের অপরিহার্যতা, নৈতিক নেতৃত্ব, পেশাগত সততা এবং একজন আইনজীবীর সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। 

অ্যাটর্নি জেনারেলের এই অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আইন পেশা সম্পর্কে গভীর আগ্রহ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনুভা শেলী এবং অ্যাডভোকেট দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন এবং আইন পেশার বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব, পেশাগত নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে মূল্যবান দিকনির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে ‘আমরা নারী’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এম এম জাহিদুর রহমান (বিপ্লব), সভাপতি শাবনাম শেহনাজ চৌধুরী এবং টিম লিডার সানজিদা ইসলাম অনুস্কা। শিক্ষা সফরের সার্বিক পরিকল্পনা, সমন্বয় ও সফল বাস্তবায়নে সানজিদা ইসলাম অনুস্কা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, সিনিয়র স্কেল প্রভাষক সিদরাতুল মুনতাহা ত্রিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রভাষক ও কো-অর্ডিনেটর নাঈমা রুহোল। তারা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক তত্ত্বাবধান, দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষা সফরের বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডেপুটি কমিশনার (ক্রাইম) মো. তারেক জুবায়ের। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ তদন্ত, আধুনিক পুলিশিং, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা এবং বাস্তব কর্মপরিবেশের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি একটি এক্সক্লুসিভ নলেজ-শেয়ারিং সেশনে অংশগ্রহণ করেন। এসময় সংবিধান, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনা, সরকারি আইন কর্মকর্তাদের ভূমিকা, আইন পেশায় ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা এবং সমসাময়িক আইনগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বাস্তবধর্মী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ লাভ করেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, এ ধরনের শিক্ষা সফর ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক জ্ঞান-বিনিময় কার্যক্রম শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা পালনের মানসিকতা গড়ে তুলতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‘আমরা নারী’ একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সংস্কৃতি, দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ, গবেষণা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবাধিকার বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সচেতন এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম অগ্রাধিকার।

সংগঠনটি বিশ্বাস করে- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে এ ধরনের সমন্বিত ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতের আইনজীবী, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর অবদান রাখবে।

এএইচ