নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদের বাধার কারণে এই আইনটি চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
গত ৭ জুন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মোহসেন রশীদ এই রিটটি করেছিলেন, যার ওপর শুনানি শেষ হয়েছিল ২৬ জুলাই।
আদেশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মহসিন রশীদ বলেন, `কোর্ট বলেছে আমি এটা করতে পারি না, তার কারণ হচ্ছে সংবিধানে আর্টিকেল ৪৭(৩)-তে বাধা আছে। কিন্তু আমার যুক্তি হলো, ১৯৭৪ সালের দিল্লি চুক্তির পর যখন ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তখনই এই আইনের কার্যকারিতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। এটি এখন একটি ‘ডেড ল’ (মৃত আইন)।’
এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘আইনটি এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যে কারও ওপর ক্ষোভ হলেই বলা হচ্ছে তাকে আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) বিচার করো। বিচার ব্যবস্থা এখন যেদিকে বাতাস সেদিকে যাচ্ছে। আমি এই আদেশের বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করব।’
রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে আইনটি করা হলেও পরবর্তীতে সিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবন্দীদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গেছে। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এই আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও রিটে দাবি করা হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে মোহসেন রশীদ নিজেই শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুজ্জামান তুহিন। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছিল।
একাত্তরে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্দেশে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত-বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ‘ফরমায়েশি রায়ে’ মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালের রায়ে। যা বেশ বিতর্কের জন্ম দেয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার চলছে। এর মধ্যে একটি মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আরএনবি/এএইচ