নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রধান ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন দিবস উদ্যাপনের সময় রাতে লাউডস্পিকার ও আতশবাজির মাধ্যমে তীব্র শব্দদূষণ, জনউপদ্রব সৃষ্টি এবং সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও জুয়া প্রতিরোধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (২৬ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন।
রুলে এ ধরনের প্রধান ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ এবং জুয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর মোহাম্মদ আজমী ও ইউনুস আলী রবি।
এর আগে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বেপরোয়া উদ্যাপন, গভীর রাতে উচ্চশব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো এবং সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও শেখ সাইফ উদ্দিন ফিরোজসহ আটজন আইনজীবী।
রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, যুব ও ক্রীড়া সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বেপরোয়া উদ্যাপন ও বিরোধ থেকে সৃষ্ট জীবনঘাতী সহিংসতা, জনদুর্ভোগ, শব্দদূষণ এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট হওয়া নিয়ন্ত্রণে বিবাদীগণের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা দেখা গেছে।’
আবেদনকারী আইনজীবীরা জানান, বড় খেলাগুলোর সময় উন্মুক্ত স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানো (পাবলিক স্ক্রিনিং), উদ্যাপনের সময়সীমা এবং পটকা বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।
রিটে হাইকোর্টের কাছে আর্জি জানিয়ে বলা হয়, ‘প্রধান প্রধান ক্রীড়া অনুষ্ঠানের সময় বড় পর্দায় প্রদর্শন, উদ্যাপনের সময়সূচি এবং পটকা ও লাউডস্পিকার ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের জন্য একটি সর্বাত্মক ও কঠোর ‘জাতীয় নীতি বা নির্দেশিকা’ প্রণয়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হোক।’
পাশাপাশি অন্তর্র্বতী নির্দেশনা চেয়ে আবেদনে আরও বলা হয়, ‘রাত ১১টা ১ মিনিটের পর অননুমোদিত সাউন্ড সিস্টেম, উচ্চ ডেসিবেলের মাইক্রোফোন এবং পটকা বা আতশবাজি ব্যবহার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হোক এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহিংস সংঘাত রোধে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হোক।’
আরএনবি/এএইচ