Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

ট্রাইব্যুনালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও হামিদের নামে অভিযোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

আওয়ামী লীগ আমলের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ‘আয়নাঘর’ এবং জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নীরবতা পালন ও ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়’ (সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি) থেকে সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা পড়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ ও ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)’ নামের দুটি সংগঠন পৃথকভাবে এই আবেদনগুলো জমা দেয়।

বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে দুই সাবেক রাষ্ট্রপতিরই বিচার চাওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে কেবল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের শেষে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, হামিদ সাহেব, আরেকজন হচ্ছে চুপ্পু (সাহাবুদ্দিন) সাহেব— উনারা রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের মধ্যে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়, তার কোনো ভূমিকা রাখেননি। জনগণের কষ্টের টাকা, ট্যাক্সের টাকায় তাদের বেতন হতো, তা তারা উপভোগ করতেন। কিন্তু তারা কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাদের ক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, উনি রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক, অর্থাৎ তিন বাহিনী প্রধান। উনি যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন। এই ঘোষণা করার ক্ষমতা সবকিছু তার, কিন্তু উনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ অগাস্ট পর্যন্ত এই আয়নাঘর, গুম, খুন, এত লোক মারা গেছে— কোনোদিন প্রতিবাদ করেননি। উনার মৌন সম্মতি ছিল এই অপরাধে। তাই এই অভিযোগ।

রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল মন্তব্য করে হাসিনুর রহমান বলেন, আমরা চাই এমন রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের দরকার নেই। রাষ্ট্রের প্রধানকে কিছু ক্ষমতা দেন, যেন ভূমিকা রাখতে পারেন। না পারলে পদত্যাগ করতেন, তাহলে মনে করে নিতাম আপনি আমাদের সাথে আছেন। এই জন্যই আজকে আমরা অভিযোগ দায়ের করতে আসছি।

4

একই দলের প্রধান সংগঠক মুন্সি বোরহান মাহমুদ বলেন, আমরা মূলত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি, যারা তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রপ্রধান ছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় এবং তারপরে শাপলা চত্বর গণহত্যা, তারপরে একে একে জুডিশিয়াল কিলিং, গুম, খুন, আয়নাঘরসহ বাংলাদেশে যতগুলো নারকীয় ঘটনা ঘটেছে— এই ঘটনাগুলোর সময় এই দুজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ‘সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গণহত্যার ঘটনার সময় ওখানে রাষ্ট্রের বা দলের যে সর্বোচ্চ ব্যক্তি থাকেন, তার উপরে মূলত এর অপরাধের দায় বর্তায়। তৎকালীন সময়ের প্রেসিডেন্টরা এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সাপোর্ট দিয়েছেন, সব ধরনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। তিন বাহিনী তার হাতে ছিল এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাগুলো তার হাতে ছিল। তিনি এই অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ওই ক্ষমতার অংশ হয়েছেন, সুবিধা ভোগ করেছেন। তাহলে তারা কখনো এই অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে তাদের কিছু করার সুযোগ ছিল কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বোরহান মাহমুদ বলেন, একটা সুযোগ উনার সাংবিধানিক ছিল, উনি পদত্যাগ করতে পারতেন। কিন্তু উনি পদত্যাগ করেননি। একটা প্রেসিডেন্ট দেখতেছে এত মানুষ মারা যাচ্ছে, এদের টাকায় উনার বেতন-ভাতা, সব সুযোগ-সুবিধা পান— উনি কোনো ভূমিকা রাখলেন না। এরকম তো আমরা চাই না।

বাংলাদেশে এমন পদত্যাগের নজির না থাকলেও আগামীতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নজির তৈরি করতেই তারা বিচার চাইছেন বলে জানান এই সংগঠক।

5

সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত চায় রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম

এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আলাদা আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)। 

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন।

আবেদনে আয়াস দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে।

অপহরণের পর তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেখানে আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে আমাকে বাধ্য করা হয়। পরদিন আমাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির আইনি দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আয়াস বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এমআইকে/আরএনবি/এএস