নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে আগামী ১ আগস্ট র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) বা কথিত ‘আয়নাঘর’ এবং ৪ আগস্ট ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) পরিদর্শনে যাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের পাশাপাশি প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত থাকবেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত এগিয়ে নেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে স্মারকলিপি দেয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। পরে জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী দিনের তদন্ত কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরে এসব তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর।
এর আগে গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পরিদর্শনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল র্যাব-১-এর টিএফআই সেল বা কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন। এরপর ৪ আগস্ট তারা ডিজিএফআই কমপ্লেক্সে অবস্থিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে ঘটনাস্থল সম্পর্কে একটি মেমোরেন্ডাম প্রস্তুত করে তা মামলার নথিতে সংযুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নজির রয়েছে। যুগোস্লাভিয়া ও রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকার্যে এমন উদাহরণ দেখা গেছে। দেশের আইনেও ডোমেস্টিক ল-এর ১৯(বি) ধারায় বিচারকের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেমোরেন্ডাম প্রস্তুত করার বিধান রয়েছে, যা মামলার নথির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিচারকাজে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, আগামী ৬, ৭ ও ৮ আগস্ট প্রসিকিউশনের একটি দল খুলনার সুন্দরবনসংলগ্ন ঠাকুরপুর এলাকায় যাবে। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘গুম চর’ নামে পরিচিত। সেখানে গুমের অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের অগ্রাধিকার সম্পর্কে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান, গুম, খুন, ক্রসফায়ার এবং ওয়ান-ইলেভেনের (১/১১) সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনে থাকবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) এবং ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি), অর্থাৎ কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও।
বুধবার (২২ জুলাই) জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের এক আইনজীবীর মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ অনুমতি দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ডিজিএফআইসহ অন্যান্য বন্দিশালা পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সঙ্গে ডিফেন্স আইনজীবীরাও অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে মৌখিক আবেদন করার পর ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তবে পরিদর্শনের সময় ট্রাইব্যুনাল যদি নিজেদের বিবেচনায় একজন বা একাধিক সাংবাদিককে সঙ্গে নেন, তাহলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আরও জোরালো হবে।
আরএনবি/এআর