নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলার জট কমাতে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বরাবর চিঠি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।
বুধবার (২২ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চিঠি পাঠানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির বলেন, ‘আপিল বিভাগে বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ মাত্র চারজন বিচারক রয়েছেন এবং প্রায় ৩৮ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।’
বিচারপতি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এই আইনজীবী বলেন, ‘বস্তুত অর্থে আপিল বিভাগ যদি বিশেষায়িতভাবে বিভিন্ন বেঞ্চে গঠিত না হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। এটা কোনো সরকার বা ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়, এটা ২০ কোটি মানুষের জন্য প্রয়োজন।’
মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কথা উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, ‘এখন যে অবস্থায় আছে, এ অবস্থায় যদি চলমান থাকে, তাহলে ১০ বছরেও, সপ্তাহে ৭ দিন কাজ করলেও মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না।’
উন্নত বিশ্বের সর্বোচ্চ আদালতগুলোতে বিভিন্ন ‘বিশেষায়িত বেঞ্চ’ (সিভিল, ক্রিমিনাল, রিট ও কোম্পানি ম্যাটার) থাকার কথা তুলে ধরেন এই আইনজীবী।
সুনির্দিষ্ট মামলার বিচারে গভীর জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিভিল, ক্রিমিনাল, রিট এবং কোম্পানি ম্যাটারে বিভক্ত করে যদি অন্ততপক্ষে ৯ জন বিচারপতি না হয় আপিল বিভাগে, তাহলে আমাদের উচ্চ আদালত থেকে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ছাড়া আর কিছু পাওয়া সম্ভব নয়।’
রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া চিঠিতে ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিচারপতি ও মামলার সংখ্যার একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন শিশির মনির।
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে আপিল বিভাগ চারজন বিচারপতি নিয়ে যাত্রা শুরু করে, তখন বিচারাধীন মামলা ছিল ৪ হাজার ৫৬টি। ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করেন, তখন মামলা ছিল ৫ হাজার ২৬০টি। আর ২০২৪ সালে এসে বিচারাধীন মামলা বেড়ে ৩১ হাজার ১২০টিতে দাঁড়ালেও বিচারপতির সংখ্যা আনুপাতিক হারে বাড়েনি।
সংবিধানের ৯৪ ও ৯৫ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, সংবিধানে আপিল বিভাগের বিচারপতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই, রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দিতে পারেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ জন করার উদাহরণও টানেন তিনি।
সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘এক হলো— জরুরি ভিত্তিতে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং দ্বিতীয়টি হলো- নেওয়ার পরে বেঞ্চগুলোকে বিশেষায়িত ভাগে বিভক্ত করে দেওয়া। তাহলেই বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশার পূর্ণাঙ্গতা বাস্তবে ধরা দেবে।’
অন্যথায় সংস্কারই বলি আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতাই বলি, সবকিছুই মামলার জটে মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য’, যোগ করেন শিশির মনির।
আরএনবি/এএইচ