নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
বাংলাদেশ এখন ‘পলিটিক্স অব রিকনসিলিয়েশন’ বা ঐক্যের পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রাজনীতি প্রতিশোধের খেলা নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বিগত সরকারের ছড়ানো ‘রক্তের গঙ্গা’ বয়ে যাওয়ার ভীতি নাকচ করে দিয়ে একটি বিভেদহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) খুলনা বিভাগীয় আইনজীবী সমিতির ৩০ বছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনজীবীদের পেশাগত কল্যাণে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা চরমে নিয়ে গিয়ে তারা সমাজকে বিভক্ত করেছিল। ওই সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বা ভোটাধিকারের কথা বললেই ভীতির রাজত্ব তৈরির চেষ্টা করা হতো।
তিনি বলেন, ‘তাদের একটা ক্যাম্পেইন ছিল— যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে যায়, প্রথম দিনেই বাংলাদেশে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে, রক্তের গঙ্গা বয়ে যাবে। এরকম একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।’
দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাগার থেকে মুক্তির পরে অনেকেই ভেবেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় রক্তের গঙ্গা বয়ে যাবে, শ্বেতাঙ্গরা আর বাস করতে পারবে না। কিন্তু তার মুক্তির গান ছিল পলিটিক্স অব রিকনসিলিয়েশন বা ঐক্যের ডাক। তিনি প্রতিশোধ নেননি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন রাজনীতি প্রতিশোধের জায়গা নয়, প্রতিশোধের খেলা নয়। যে কারণে ফ্যাসিস্টরা চলে যাওয়ার পরে রক্তের গঙ্গা বইবে বলে যে প্রোপাগান্ডা তৈরি করা হয়েছিল, আমরা কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই পথ ধরে হাঁটি নাই। আমরা হাঁটছি তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে এই বাংলাদেশকে আগামী শিশুর বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য।’
রাজনীতির ঊর্ধ্বে গুণীজনদের সম্মান
পেশাগত জায়গায় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে মেধা ও অবদানের মূল্যায়ন করার তাগিদ দেন আইনমন্ত্রী। সাবেক স্পিকার জমিরুদ্দিন সরকারকে ‘আদর্শের প্রতিবিম্ব’ আখ্যা দিয়ে তার সততা ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্তগুলো আইনজীবীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
ভিন্নমতাবলম্বী হলেও সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ওনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানের মুখবন্ধ লেখায় তিনি যে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন, সেটা আমরা ভুলে যেতে পারি না। আজকে যদি আপনারা এখানে ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম সাহেবের মত প্রথিতযশা বিজ্ঞ আইনজীবীকে উপস্থিত করতে পারতেন, আমি আরও বেশি খুশি হতাম।’
ক্ষমতাকেন্দ্রিক তোষামোদের সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আজকে আমাকে আপনারা প্রধান অতিথি করলেন, আইনমন্ত্রী হলাম, কালকে আমি এখানে থাকবো না, আমাকে ভুলে যাবেন— এই পরিবেশটা যাতে না থাকে।’
দলীয় পরিচয়ের বাইরে এসে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই খুলনা বিভাগীয় আইনজীবী সমিতি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক, যেখানে এসে সবাই মনে করতে পারবে— আমি বিএনপি নই, আমি আওয়ামী লীগ নই, আমি জামায়াত নই, আমি অন্য কিছু নই; আমি শুধুই খুলনাবাসী, খুলনা বিভাগের মানুষ।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোশিয়েসনের সভাপতি এ কে এম মাহবুব উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোশিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিন মুন্নী ও নওশাদ জামির।
আরএনবি/এএইচ