নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ঈদুল আজহায় পশুর হাটে অনুমানের বদলে ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে ওজনে (লাইভ ওয়েইট) কোরবানির পশু বিক্রির বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন।
রিটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের (ডিএনসিআরপি) মহাপরিচালক এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, ‘দেশে হাঁস-মুরগি বা মাছের মতো দৈনন্দিন পণ্য ওজনে বিক্রি হলেও কোরবানির পশু বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ক্রেতাদের শুধুমাত্র অনুমানের ওপর নির্ভর করে পশু কিনতে বাধ্য করা হয়।’
আইনজীবী রিটে উল্লেখ করেছেন, ‘এই সুযোগে অসাধু সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র কোরবানির মতো একটি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় বিধানকে পুঁজি করে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক মূল্য আদায় করে অর্থনৈতিক শোষণ করছে।’
বিষয়টিকে সংবিধানের ৩১ ও ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের আইনের সুরক্ষা এবং স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকারের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিটে।
এছাড়া পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইসরা’র ৩৫ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে ওজনে সঠিক পরিমাপের বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের পশুর হাটগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে গবাদিপশু ওজনে বিক্রি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, ‘কোরবানির পশু ওজনে বিক্রি করা ইসলামী শরিয়ত এবং আধুনিক ভোক্তা অধিকার আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ডিজিটাল স্কেল ব্যবস্থা চালু না থাকায় দেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম মারাত্মক অর্থনৈতিক শোষণের শিকার হচ্ছেন এবং সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন।’
সারাদেশের পশুর হাটগুলোতে সার্টিফাইড ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে পশু বিক্রি নিশ্চিত করতে বিবাদীদের প্রতি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন আইনজীবী মামুন। শিগগিরই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরএনবি/এএইচ