নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
পল্লবীতে শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলছেন এ ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও মামলার আরেক আসামি স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্ট বেঞ্চে জেল আপিল শুনানিতে এসব দাবি করেছেন সোহেল ও স্বপ্না।
এদিন নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন সোহেল। তার একমাত্র ছেলের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের ভরণপোষণের মতো আর কেউ নেই বলেও আদালতকে জানিয়েছেন।
আপিল শুনানিতে সোহেল বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্ত, আর্থিক অভাবের কারণে রামিসার হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে। মাদকাসক্তির কারণে কীভাবে কী ঘটে গেছে, তাও বুঝতে পারিনি। আমার একমাত্র ছেলের পড়াশোনা খরচ ও পরিবারের ভরণপোষণ করার মতো কেউ নেই। আমি ভুল করেছি। আমি ক্ষমা চাই।’
অন্যদিকে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে স্বপ্না বলেন, ‘রামিসা হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। আমাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।’
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল এবং স্বপ্না- দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাইকোর্টে জেল আপিল করেন তারা।
এর আগে গত ৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০- এর ধারা ৯(২) মোতাবেক মৃত্যুদণ্ড দেন।
পাশাপাশি দুজনকে যথাক্রমে ৫ ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে স্থানান্তর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সোহেল রানাদের ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আট বছরের রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় প্রথমে বাসা থেকে গ্রেফতার হন স্বপ্না। প্রধান আসামি সোহেল পালিয়ে গেলেও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাকেও নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি তুলেছে শিশু রামিসার পরিবারসহ বিভিন্ন পক্ষ।
এএইচ