নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ–সংবলিত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। এ বছর ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
এর মধ্যে গত ২০ নভেম্বর আলাদা সচিবালয় করার পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকারে অনুমোদন পায়। তার ১০ দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয়।
এ অধ্যাদেশ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, ছুটির পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের সব কিছু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় দায়িত্ব পায়।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ সচিবালয় উদ্বোধন করেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
তবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো রহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়।
সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এটিকে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দেন।
রহিতকরণের ওই আইন পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় তার আইনগত ভিত্তি হারায়। এর ফলে বিচারক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম আবার পুরোনো কাঠামোয় অর্থাৎ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যায়।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৯ মে বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের ১৫ জন কর্মকর্তা ও বিচারককে আইন ও বিচার বিভাগে ফেরত নেওয়া হয়।
এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ–সংবলিত হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। মঙ্গলবার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে প্রধান বিচাপতি নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেয়।
এমআর