images

আইন-আদালত

আদালতে সোহেল-স্বপ্না, রামিসা হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

সারা দেশে আলোড়ন তোলা শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা নির্মম নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানায়। সরকারও এ ঘটনায় দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেয়।

ঘটনার দিনই অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

আরও পড়ুন

দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা সোহেল রানার, স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি

পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।

Ramisa2
জোরদার করা হয়েছে আদালতের নিরাপত্তা। ছবি: সংগৃহীত

বিচারের ধারাবাহিকতায় ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় সোহেল রানা আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। স্বপ্না আক্তারও অভিযোগ অস্বীকার করেন।

৪ জুন অনুষ্ঠিত যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, মামলার সাক্ষ্য, আলামত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি একত্রে আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠা করেছে। এজন্য দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

রামিসা হত্যা: বিচার বিলম্ব করতেই অন্যের নাম বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতকে জানান, তদন্তে এমন একটি ধারাবাহিক প্রমাণচিত্র উঠে এসেছে যা আসামিদের অপরাধের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে যুক্ত করে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ যুক্তি দেন, মামলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। ডিএনএ প্রতিবেদনের অনুপস্থিতি, ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার না হওয়া এবং সিসিটিভি ফুটেজ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি সোহেল রানার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা দেওয়ার আবেদন জানান।

তদন্ত শুরু থেকে রায় ঘোষণার পর্যায় পর্যন্ত পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এত দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার নজির খুবই কম।

জেবি