নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণকালে এ তথ্য জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মো. অহিদুজ্জামান।
এদিন মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আগামী বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে ভিকটিমের মা পারভীন বেগম, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু, চাচা, প্রতিবেশীসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ।
এদিন সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এজলাসে নেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত রামিসা রাজধানীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পর তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন।
পরে প্রতিবেশী একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গেলে সন্দেহ হয়। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে সোহেল রানার শোয়ার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতরে তার মাথা পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত ২৪ মে পুলিশ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। গত সোমবার ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দেন। গ্রেপ্তারের পর ২০ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।
এআর