নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মে ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার তেলাপচা এলাকায় আতরআলী বাজারে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসক মো. রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তারকে হত্যা মামলায় দলটির স্থানীয় তিন নেতাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী সামছুদ্দিন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাবলু সরদার, টোকন সরদার ও গাজীয়ার সরদার। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আতর আলী চেয়ারম্যান, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডল। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই ১৩ জনের মধ্যে দুজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: আরও দুই মামলায় খায়রুল হকের জামিন
রায় ঘোষণার সময় ১২ জন আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডলকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পলাতক অন্য আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর গোয়ালন্দের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সম্মেলন চলাকালে সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর ছেলে ও যুবলীগ নেতা বাবলু সরদারের সঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়।
এর জেরে আতর আলীর নেতৃত্বে বাবলু সরদার, টোকন সরদার, রায়হান সরদার, গাজীয়ার সরদারসহ কয়েকজন বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন। হাফিজুল চেয়ারম্যানের সমর্থকরা সেই পথ দিয়ে ফেরার সময় তাদের মারধর করা হয়।
ওই সময় একই পথ দিয়ে ফিরছিলেন পল্লী চিকিৎসক আবু ডাক্তার। তাকেও আটক করে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মো. মোবারক মোল্লা নামে একজন বাদী হয়ে গোয়ালন্দ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর পুলিশ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। বিচারকালে ২৯ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।
এএইচ