images

আইন-আদালত

ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের আইন সংস্কারের উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে প্রণীত সময়োপযোগিতা হারানো আইনগুলো আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘অপ্রাসঙ্গিক ও অকার্যকর’ বিধান চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে পর্যায়ক্রমে সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। এ লক্ষ্যে ল’ কমিশন কাজ করছে, এবং তাদের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
 
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের টেবিলে উত্থাপিত নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন আইনমন্ত্রী। 
 
প্রশ্নে সংসদ সদস্য বলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক (আইন ও বিচার বিভাগ) মন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করে বলবেন কি, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের মধ্যে ব্রিটিশ কলোনীর সময় এবং পাকিস্তান সময়ের প্রায় ৩৬৯টি আইন আছে; যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলিই কালের আবর্তে অকার্যকর। এই সব আইন নতুন করে উপযোগী করে প্রণয়নের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কি না?
 
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ-এর পর নবগঠিত বাংলাদেশে একটি সুসংহত আইনি কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘দ্য বাংলাদেশ লজ (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ তারিখ হতে বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রযোজ্য আইনগুলো, রাষ্ট্রপতির আদেশ এবং সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনগুলোকে পুনর্বিবেচনা, সংশোধন ও বাতিলের মাধ্যমে সুসংহত করা হয়। একইসঙ্গে যেসব আইন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক বা অকার্যকর ছিল, সেগুলো বাতিল করা হয় এবং কিছু আইনকে বাংলাদেশের আইনের অংশ নয় বলে ঘোষণা করা হয়। 
 
আইনমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে, যেসব আইনে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, সেগুলো সময়ে সময়ে সংশোধনের মাধ্যমে যুগোপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন বাস্তবতার প্রয়োজনে বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
 
মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের যেসব আইন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অকার্যকর বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়ন করবে। এ লক্ষ্যে ল কমিশন কাজ করছে এবং কমিশন থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। 
 
এমএইচএইচ/ক.ম