নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মানবপাচার আইনে রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলায় তার এই রিমান্ড।
আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রায়হানুর রহমান চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার বিকালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।
এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত ২৩ মার্চ রাতে তার ঢাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি। পরে পল্টন থানার মানব পাচার আইনে করা এ মামলায় আদালতের মাধ্যমে ডিবি তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়। একই মামলায় ২৯ মার্চ তাঁকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয় ডিবি।
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড শুনানি করেন সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম সরকার। আদালতে তারা বলেন, এই আসামিরা সিন্ডিকেট করে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য করে। কমিশন না দিলে তারা কাজ পেত না। এই সিন্ডিকেটের সবাই পলাতক তিনি ছাড়া। বাকি আসামিদের তথ্য জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে দুই কৌঁসুলি আরও বলেন, এই আসামি এক-এগারেরা কুশীলব ছিলেন। টাকার নেশায় তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়ে এই সিন্ডিকেট করেন। রিমান্ডে তিনি সব তথ্য দেননি। পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের জন্য চার দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ মামলায় আসামিকে দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের ফরোয়ার্ডিং দেখলাম, সেখানে তদন্তসংক্রান্ত অগ্রগতির কিছুই লেখেননি।’
আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানতে পারছি, এটা মানবপাচার মামলা, কিন্তু এই তথ্য উদ্ঘাটন না করে তদন্ত কর্মকর্তা অন্য তথ্য উদ্ঘাটনে ব্যস্ত। আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার করা—এটা রিমান্ডে নেওয়ার গ্রাউন্ড হতে পারে না।’
সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় এ মামলা করেন আফিয়া ওভারসিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আলতাব খান। এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়াও মামলায় সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের মালিক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়।
ক.ম/