জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) রাষ্ট্রপতি তাকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
আইন পেশায় বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ১৯৮৬ সালে যশোর বোর্ড থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে একই বোর্ড থেকে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৮ম স্থান অধিকার করে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯৪ সালে এলএলএম সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পুনরায় এলএলবি (অনার্স) এবং ২০০৬ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক লিংকনস ইন থেকে তিনি ব্যারিস্টারি সনদ অর্জন করেন।
তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আইন পেশার প্রতিটি ধাপে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন ব্যারিস্টার কাজল। ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পেশা শুরু।
১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাকে আইন পেশার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে ভূষিত করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত এবং টানা তিনবারের (২০২০-২০২৩) সম্পাদক।
এছাড়া সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এবং এর এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
সংবিধান ও ফৌজদারি আইনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি বহু ঐতিহাসিক মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রিভিউ, পঞ্চদশ সংশোধনী এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউ মামলায় তার আইনি বিশ্লেষণ আদালত ও আইনজীবীদের মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এমিকাস কিউরি হিসেবে জটিল সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় সর্বোচ্চ আদালতকে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেছেন ব্যারিস্টার কাজল।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি আইনি লড়াই পরিচালনা করেছেন।
সবশেষ জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূস সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটের বিপক্ষে তিনি আদালতে ভূমিকা রেখেছেন।
পেশাগত জীবনের বাইরেও তিনি ২০০৩-২০০৬ মেয়াদে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
এছাড়া তিনি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে সংবিধান ও বিচার বিভাগ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দিয়েছেন।
বিইউ/ক.ম