images

আইন-আদালত

ফারইস্টের ৮১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল  

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে ডিবি (ডিএমপি) পুলিশ।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ মিনহাজ উদ্দিন আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

এর আগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ।

তদন্তকালীন এজাহারনামীয় ১নং আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় এবং ৫নং আসামি তানভীরুল হক ও ৬নং আসামি নূর মোহাম্মদ ডিকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলা হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে আরও ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদেরকে নতুন করে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এরা হলেন- ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার খালেদ, রুবাইয়াত খালেদ, একরামুল আমিন, মো. আলী হোসেন, মো. আলমগীর কবির মুন্সি, মো. হেমায়েত উল্যাহ, কামরুল হাসান খান, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, মো. কামাল হোডেন হাওলাদার, মাকবুল এলাহী, সৈয়দ আব্দুল আজিজ, তাসলিমা ইসলাম, মোছাম্মৎ সাবিহা খালেক, সারওয়াৎ খালেদ সিমিন, এ কে এম মনিরুল ইসলাম, খন্দকার মোহাম্মদ খালেদ, মো. মিনহাজ উদ্দিন, মো. আজহার খান, মো. সোহেল খান, মো. সেলিম মাহমুদ, মো. কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, আসাদ খান ও মো. রহমত উল্যাহ দেওয়ান।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় আসামি এমএ খালেক ও নজরুল ইসলাম বিমা কোম্পানিটির নেতৃত্বে থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন সময়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে। আসামিরা বিভিন্ন সময় জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড থেকে প্রায় ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোম্পানির প্রায় ৮৪২ কোটি টাকা সমন্বয় করে নেয়।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু ব্যাংকে রক্ষিত ৬৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার এমটিডিআর আত্মসাৎ হয়েছে মর্মে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ তোপখানা রোডে জমি ক্রয়ে সুকৌশলে ৪৫ কোটি এবং ৭২ কাকরাইলে জমি ক্রয়ে একইভাবে ১১৫ কোটি টাকা গ্রহণ করাসহ মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ীতে জমি উন্নয়নের ব্যয় দেখিয়ে ৯২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে মর্মেও তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নজরুল-হেমায়েত চক্রের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও সাতটি মামলা দায়ের করেছে।

এএইচ