Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

দুদকের মামলায়ও আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাতেও জামিন পেলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা রইল না।

বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

এদিন এই সাংবাদিকের জামিন চেয়ে আদালতে শুনানি করেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি। শুনানি শেষে তিনি বলেন, ‘দুই মামলায় জামিন হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর বাধা নেই।’

এর আগে গত ৫ মার্চ ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর। তবে ৮ মার্চ দুদকের মামলায় তার জামিন নাকচ করে দেন আদালত।

তার আগে গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

এরপর সেদিন মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা ও উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।

মামলাটিতে তখন আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তারপর থেকেই তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করলে তার আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন।

তারই মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নানা কারণে আলোচিত এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২৮ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। 

এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

এ হিসাবে আনিস আলমগীরের ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিস আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচিত-সমালোচিত। ফেসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও চর্চা কম নয়।

এএইচ