জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৬ জুলাই ২০২২, ০৫:১১ পিএম
সারাদেশের আইনজীবীদের মাদার সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে আইনজীবী তালিকা ভুক্তিকরণের উদ্দেশে পরীক্ষা গ্রহণ, সনদ দেওয়া ও তাদের অসদাচরণের দায়ে শাস্তি প্রদান।
দ্য বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অ্যান্ড রুলস-১৯৭২ এর দ্যা ক্যাননস অব দ্যা প্রফেশনাল কনডাক্ট অ্যান্ড ইটিকুইটি (পেশাগত অসদাচরণ ও নিয়মানুবার্তিতা) অধ্যায়ে আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
এই বিধি অনুযায়ী, আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিচার করার জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। এই ট্রাইব্যুনালটি তিনজন আইনজীবী দ্বারা পরিচালিত হয়। বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে থেকে দুজন আর সাধারণ অ্যাডভোকেটদের মধ্য থেকে একজনসহ মোট তিনজনকে নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। আইনজীবীদের মধ্যে যিনি প্রবীণ তিনি হবেন এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান।
একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ দিলে সেটি বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে হয়।
অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো হলে তা গ্রহণ করে তদন্ত করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনালের বিচারক তার অভিযোগ শুনানি করতে দিন নির্ধারণ করেন, এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্ধারিত দিনে শুনানিতে হাজির হতে চিঠি দেওয়া হয়।
এরপর নির্ধারিত দিনে শুনানি করা হয়। অভিযোগ দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০০০ টাকা ফি জমা দিতে হয়। এই ফিসহ সব শর্ত পূরণসাপেক্ষে আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে সাজা দেওয়া যায়।
বার কাউন্সিলের বিধানমতে, তিন ধরনের সাজা দেওয়া যায়। সেটা হচ্ছে তিরস্কার করা, আইনজীবীর সনদ সাময়িক বাতিল করা, আইনজীবীকে তার পেশা হতে অপসারণ করা।
আইনজীবীকে সাজা দিলে সেই সাজার বিরুদ্ধে রিভিউ বা আপিল করার সুযোগ রয়েছে। একজন আইনজীবী তার পেশাগত অসদাচরণের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে তাকে সাজার সম্মুখীন হতে হয়। এই সাজার প্রতিকার চেয়ে তাকে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হয়। আর ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা (রিভিউ) করতে পারবেন আইনজীবী।
কিছু কিছু কারণে আইনজীবী আপিল করতে তামাদি মেয়াদ পাবেন। যেমন অসুস্থতার কারণে আইনজীবী দেশের বাইরে থাকলে পরবর্তী সময়ে তিনি দেশে ফিরে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তবে আইনজীবীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীকে জরিমানা করতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। সেই জরিমানার পরিমাণ হবে ৫০০ টাকা।
কাজেই বলা যায়, পেশাগত অসদাচরণের দায়ে যেমন আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তেমনি অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে জরিমানার আদেশও দিতে পারেন ট্রাইব্যুনাল।
এআইএম/জেবি