Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের উপর হামলার ঘটনায় ৩ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন ও রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের হামলার ঘটনায় তিনজনকে দুইমাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. তৌফিক আহমেদ মিশু।

দণ্ডিতরা হলেন- মো. শাকিব হোসেন (২৪), মো. শাহরিয়া নাজিম রবিন (২১) ও ইমতিয়াজ আহাম্মেদ (২৫)।

জানতে চাইলে ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি তৌফিক বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে আমরা ইন্টার্ন চিকিৎসকবৃন্দ সন্তুষ্ট। আশা করি, এর মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো এবং ভবিষ্যতে দেশের যেকোনো হাসপাতালে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি যে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন কার্যকর করা হোক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্বাস্থ্য পুলিশ’ নামে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট গঠন করে সরকারি ও বেসরকারি সকল হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

এরআগে হামলায় জড়িতদের বিচার দাবিতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানে ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের কাছে স্মারকলিপি দেন চিকিৎসকরা।

 

সেদিন ঢামেকে যা ঘটে

জানা গেছে, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে দিকে মেডিসিন ইউনিটে হৃদযন্ত্র বিকলের ফলে শকে (রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া) চলে যাওয়া এক রোগী নিয়ে রাতে ঢামেক হাসপাতালে আসেন স্বজনরা। নাজমা বেগম নামের ওই রোগীর বিপি/পালস নন-রেকর্ডেবল ছিল। দ্রুততম সময়ে তাকে স্যালাইন দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন বোঝে রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রস্তুতের কথা বলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এর মধ্যেই সংকটাপন্ন এই রোগী মারা যান।

এরপরে আনুমানিক রাত ১১ টার দিকে  বহিরাগতরা রোগীর স্বজন পরিচয়ে ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে কর্তব্যরত ৫ জন চিকিৎসকের প্রতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং ডাক্তারের গায়ে হাত তুলে ও বিপি কাফ ছুঁড়ে মারে। খবর পেয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তার ও ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা আনসার ও পুলিশ-প্রশাসনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপরাধীদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এ বিষয়ে ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক ডা. নাদিম হোসাইন বলেন, ‘পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়ার পরও এমন রোগী যে কোনো মুহূর্তে বিদায় হয়ে যেতে পারে। শত চেষ্টার পরও এই রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে এমন রোগী এলে আরও অন্য ইমারজেন্সির রোগীর সাথেই তাদের চিকিৎসাও নিশ্চিত করা হয়। যদিও অন্য রোগীদের ভিড়ে তা অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে উঠে। তবুও আমরা চেষ্টা করি অন্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি খারাপ রোগীর দিকে মনোযোগ দিতে। নির্মম সত্য হলো, এরপরও নিয়তির কারণে সব রোগীকে ফেরানো সম্ভব হয় না।’

ডা. নাদিম বলেন, ‘সকল চেষ্টার পরও রোগী মারা গেলে আবেগ, ক্ষোভ আর রাগ—সব চিকিৎসকদের গায়ে হাত তুলে মিটানোর চেষ্টা চালান স্বজনরা, যা সত্যিই দুঃখজনক।’

এসএইচ/এএম