images

আইন-আদালত

বনশ্রীতে কিশোরী হত্যায় মিলনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

রাজধানীর বনশ্রীতে কিশোরী ফাতেমা আক্তারকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিক।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে এই জবানবন্দি দেন তিনি।

এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক (রাজু) আসামি মিলনকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তিনি তা রেকর্ড করার আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মিলনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. মারুফুজ্জামান।

এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ২৮ বছর বয়সি মিলন মল্লিককে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তিনি নিহত ফাতেমার বাবার খাবার হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। 

তার আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে স্কলপড়ুয়া ফাতেমা আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৭ বছর বয়সি এই কিশোরী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ঘটনার সময় তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে ছিলেন। বড় বোন শোভা আক্তার দুপুরে ব্যায়াম করতে করতে জিমে গিয়েছিলেন। বড় বোন শোভা ফিরে এসে বোনের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন।

এ ঘটনায় শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতেই খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. সজিব। অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় সন্দেহভাজন কারও নাম নেই।

নিহতের পরিবারের সন্দেহ ছিল, তাদের হোটেলের কর্মচারী মিলন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। কারণ সিসিটিভি ভিডিওতে লাশ উদ্ধারের আগে তাকে বাসায় ঢুকতে দেখা গেছে। মামলা দায়েরের পর র‍্যাব মিলনকে গ্রেফতার করে।

মামলার এজাহার রোববার (১১ জানুয়ারি) আদালতে আসে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ মামলার এজাহার গ্রহণ করেন। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বাসার সামনে শাহজালাল হোটেল নামে একটি খাবারের হোটেল আছে সজিবের। তিনি তার ছেলে শাকিল ও কর্মচারী দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দুই মেয়েকে বাসায় রেখে স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে গত ৭ জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য হবিগঞ্জে গিয়েছিলেন সজিব।

ঘটনার দিন অর্থাৎ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে বড় মেয়ে শোভা জিম সেন্টারে যান। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় ফিরে এসে তিনি রান্নাঘরের মেঝেতে ছোট বোনকে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকার আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পুলিশকে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে।

এএইচ