images

আইন-আদালত

বিমানের ৭৪১ কোটি টাকা ক্ষতির মামলায় সাবেক বিচারপতির জামিন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৮ পিএম

পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ মিসরীয় বিমান ভাড়ায় এনে সরকারের ৭৪১ কোটি টাকা ক্ষতির মামলায় সাবেক বিচারপতি এ এফ এ মেসবাহ উদ্দিনসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ নভেম্বর) আসামিপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর এই মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নেন আদালত। ওইদিন পলাতক থাকায় সাবেক বিচারপতি এ এফ এম মেজবাউদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ছাড়া ১৮ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আজ আদালতে হাজির হয়ে তিনজন আসামি আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়া অন্য দুইজন হলেন পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক পরিচালক ফজলে কবির।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অন্যান্য আসামিরা হলেন সাবেক পরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী, সাবেক পরিচালক এয়ার ভাইস মার্শাল আবু এসরার, সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ।

জামিনে থাকা আসামিরা হলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ, সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল আলম সিদ্দিক (মো. এস এ সিদ্দিক), সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার দেবেশ চৌধুরী, সাবেক এয়ারক্রাফট মেকানিক ও বর্তমানে প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (স্ট্রাকচার) শরীফ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, ইঞ্জিনিয়ার অফিসার (অব.) মো. জাহিদ হোসেন, প্রকৌশলী কর্মকর্তা হীরালাল চক্রবর্তী, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার অশোক কুমার সর্দার এবং প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।

অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক ইন্সপেক্টর অব এয়ারক্রাফট গোলাম সারওয়ার, সহকারী পরিচালক (এওসি-এয়ারওয়ার্দিনেস) মোহাম্মদ সফিউল আজম, সহকারী পরিচালক (অ্যারোস্পেস/এভিয়নিক্স) দেওয়ান রাশেদ উদ্দিন এবং সাবেক সহকারী পরিচালক (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) মো. আব্দুল কাদির।

২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক আনোয়ারুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন জন স্টিল মারা যান। পরে অধিকতর তদন্তে আরও সাতজনকে অভিযুক্ত করে মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ দুটি ভাড়ায় নিয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। দেড় বছরের মাথায় বাকি ইঞ্জিনও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ফের ইজিপ্ট এয়ার থেকে ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। পরবর্তীতে সেই ইঞ্জিনও বিকল হয়ে পড়ে। মেরামতের জন্য ইঞ্জিনটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হলেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে ইজিপ্ট এয়ার এবং মেরামতকারী কোম্পানি— উভয়কেই অর্থ দিতে হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। এর ফলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় ৭৪১ কোটি টাকা।

এআইএম/এআর