images

আইন-আদালত

‘রাফসান দ্য ছোট ভাই’য়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জুন ২০২৪, ০৫:২১ পিএম

‘রাফসান দ্য ছোট ভাই’ খ্যাত জনপ্রিয় ইউটিউবার ইফতেখার রাফসানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অনুমোদনহীন এনার্জি ড্রিংকস ‘ব্লু’ বাজারজাত করায় বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক আলাউল আকবর এই আদেশ দেন। 

খাদ্য কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন এক আবেদনে জানান, ব্লু’র কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি ওষুধ প্রশাসনও জানে না এটা ওষুধ নাকি পানীয়। সেই প্রেক্ষিতে ইফতেখার রাফসানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত মাসে নোংরা পরিবেশে কারখানায় ড্রিংকস ব্লু (BLU) তৈরির অভিযোগ ওঠে। এ কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেন। যদিও পরে ‘ব্লু’ এর অফিসিয়াল পেজে পণ্যটি প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরেন রাফসান।

সে সময় ব্লুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ওই ভিডিওতে ব্লু তৈরির প্রক্রিয়া দেখানো হয়।

পোস্ট করা ওই ভিডিওর ক্যাপশনে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত মাসের এপ্রিলের ২৪ তারিখ বিএসটিআই তাদের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ‘প্যাকেজিং নিবন্ধন সার্টিফিকেট’ এর কারণে। এটা প্রোডাক্টের লেবেল সম্পর্কিত, কোয়ালিটি বা মান সম্পর্কিত নয়।
 
পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের বিরুদ্ধে আনা কিছু অভিযোগের পটভূমিকা স্পষ্ট করার জন্যই প্রোডাক্ট তৈরির পরিবেশ ভিডিওতে শেয়ার করেছেন তারা।

এর আগে বাবা-মাকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়ে আলোচনায় আসেন এই ইউটিউবার। সে সময় একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় রাফসানের বাবা-মা ঋণখেলাপি। বাবা মায়ের ঋণ পরিশোধ না করে তিনি তাদের গাড়ি উপহার দিয়েছেন। 

সে সময় বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ফেসবুক লাইভে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। প্রায় ৫ মিনিটের ওই লাইভে রাফসান বলেন, ‘আমার গাড়ি কেনা নিয়ে যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে তা ভুল। খোঁজ নিয়ে দেখেন আমার গাড়ির দাম মোটেও ২ কোটি টাকা নয়।

রাফসান আরও বলেন, ‘আমার বাবা, মার একটি কোম্পানি আছে। ওই কোম্পানি লোনও নিয়েছিল। ব্যাংক থেকে লোন নিতে হলে সম্পত্তি মরগেজ দিয়ে টাকা নিতে হয়। আমরা আমাদের ১০ গুণ জমির দামে ১ টাকা লোন নিয়েছি ধরেন। এখন ব্যাংক চাচ্ছে, পুরো জমিটি হাতিয়ে নিতে। এজন্য আদালতে মামলা চলছে।’
 
এ সময় রাফসান আফসোস করে বলেন, ‘মামলায় দুই পক্ষের কথাই আদালত শুনবেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোর্টে সিদ্ধান্ত হয়নি আমরা ব্যাংককে কত টাকা ফেরত দেব। তাই ঋণ পরিশোধের বিষয়টি এখানে কীভাবে আসে?’
 
রাফসান আরও বলেন, ‘আমি বাবা-মায়ের সুসন্তান। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই আমাকে শেখাচ্ছে, বাবা, মায়ের ঋণ পরিশোধ না করার, গাড়ি না কেনার। আমি বলতে চাই, আমার ভাই সামর্থ্য আছে গাড়ি কিনেও আমার বাবা মায়ের ঋণ পরিশোধ করার। সবাইকে বলে রাখা ভালো, কোভিডের সময় যখন আমার বাবা-মায়ের ব্যবসা ডাউন হয় ওই সময় থেকেই আমি আমার বাবা, মাকে সাপোর্ট করা শুরু করেছি। তাই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছি না- বিষয়টি অদ্ভুত। আমাদের ব্যাংক ঋণের টাকাটা আগে আদালত জানাবে, তারপর আমরা তা পরিশোধ করব।’
 
সবশেষে রাফসান বলেন, ‘স্টোরির একদিক শুনে কখনও বিচার করা উচিত নয়। তাই আমি আমার ও আমার পরিবারের নামে যে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, দ্রুত সে বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেব।’