Dhaka Mail Logo

লাইফস্টাইল

প্রিয়জনের পাশে বসেও ফোনের স্ক্রিনে চোখ- ফাবিংয়ে ভুগছেন না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

মানুষকে আরও সামাজিক করতে যদিও সোশাল মিডিয়ার জন্ম হয়েছিল তবে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে মানুষে মানুষে দূরত্ব কমার বদলে যেন আরও বেড়েছে। সঙ্গীর পাশে বসেও মানুষের চোখ থাকে ফোনের স্ক্রিনে, মন থাকে আরও যোজন যোজন দূরে। প্রেমের মিষ্টি মিষ্টি আলাপ ও দুষ্টু দুষ্টু খুনসুটিগুলো যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। যে হৃদয় প্রিয়জনের মায়াবী চোখে ডুবে যেতে ব্যাকুল ছিল তা এখন ব্যস্ত স্ক্রলিংয়ে। প্রিয়জনকে উপেক্ষা করে ফোনের স্ক্রিনে ডুবে থাকার এই প্রবণতাকে ফাবিং বলে। কীভাবে ছোট্ট এই ডিভাইসটি আমাদের সুন্দর সম্পর্কগুলোকে নিঃশব্দে ধ্বংস করে দিচ্ছে চলুন জেনে নিই-

fub

কেন এমন হয়?

ফাবিং: মানুষের এই প্রবণতাকে বলা হয় ফাবিং (Phubbing) যা 'Phone' এবং 'Snubbing' শব্দ দুইটি থেকে এসেছে। ফাবিংয়ে ভোগা মানুষ মূলত প্রিয়জনদের উপেক্ষা করে ফোনে ডুবে থাকেন। এই প্রবণতার পেছনে কয়েকটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে-

ডোপামিনের নেশা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের ডোপামিন নিঃস্বরণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠেছেছ। আগে মানুষ ‍প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে গেলে যে আনন্দ পেতো সেটির জায়গা দখল করে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন, লাইক বা মেসেজ। এসব আমাদের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক হরমোন নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সাময়িক আনন্দের অনুভূতি মানুষকে বারবার ফোন চেক করতে বাধ্য করে।

ff

ফোমো বা হারানোর ভয়: Fear of Missing Out (FOMO) বা হারানোর ভয় থেকেও মানুষ এমন করে থাকে। ভার্চুয়াল জগতের কোনো আপডেট থেকে পিছিয়ে পড়া বা কোনো ট্রেন্ড মিস করে ফেলার ভয় মানুষকে অনলাইনে সক্রিয় রাখতে প্ররোচনা দেয়। এটি এমন এক অভ্যাসে পরিণত হয় কখনো কখনো মানুষ কেন ফোন স্ক্রল করছেন তা নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না।

আরও পড়ুন: সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার গোপন ৫ সূত্র

এস্কেপিজম বাস্তবতা এড়িয়ে চলা: বাস্তব দুনিয়ার জঞ্জাল থেকে বেরিয়ে নিজেকে সাময়িক আনন্দ দিতেই মানুষ মূলত সোশাল মিডিয়ায় সময় কাটান। সারাদিনের কাজের চাপের পর গভীর কোনো আলাপ বা কথোপকথন এড়িয়ে চলতেই বরং ফোনে এই ডুবে থাকা। এটিকে তারা সহজ উপায় মনে করেন।

সহজে মনোযোগ হারানো: প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। ছোট-বড় প্রায় সবাই এখন মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। তাই মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় কথা বলাটা অনেকের কাছে একঘেয়ে লাগে।

phubbing-therapy-in-the-art-museum

সম্পর্কে ফাবিংয়ের প্রভাব

গুরুত্বহীনতা ও দূরত্ব: সঙ্গীকে উপেক্ষা করে ফোনে ডুবে থাকার ফলে সম্পর্কে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।  মুখোমুখি বসে কথা বলার সময় অপরজন ফোনে ব্যস্ত থাকলে স্বাভাবিক কথোপকথন ছন্দ হারায়। এতে সঙ্গী নিজেকে অবহেলিত ভাবতে শুরু করেন। তখন জরুরি কোনো কথা বা নিছকই মন খুলে গল্প করার ইচ্ছাটা তার মরে যায়। এরকম চলতে থাকলে একটা পর্যায়ে সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে।

আরও পড়ুন: সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে নিজে ঠকে যাচ্ছেন না তো

আস্থার সংকট ও সন্দেহপ্রবণতা: পাশে বসে সঙ্গী যখন বারবার ফোন চেক করেন বা অনবরত মেসেজ করতে থাকেন তখন অপর সঙ্গীর মনে সন্দেহ বা আস্থার সংকট তৈরি হয়। তিনি ভাবতে থাকেন, তার চেয়ে ভার্চুয়াল জগতের মানুষ সঙ্গীর কাছে বেশি আকর্ষণীয়। এই অনুভূতি তার আত্মসম্মানে আঘাত করে এবং তিনি সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়েন। ফলে সম্পর্কে বড় ধরনের ঝগড়াঝাঁটি বা ভুল বোঝাবুঝি বেড়ে যায়।

fubbing

ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়া: একটি সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের ঘনিষ্ঠতার প্রয়োজন আছে। আর এর জন্য প্রয়োজন হয় একে অপরের প্রতি গভীর ও পূর্ণ মনোযোগ। তবে ফোন যদি সম্পর্কের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় তবে সম্পর্কের স্পার্ক নষ্ট হয়, পুরনো সেই রোমান্স হারিয়ে যায়।

মানসিক বিষণ্ণতা ও একাকীত্ব: গবেষণায় দেখা গেছে, ফাবিংয়ের মাত্রা বেশি এমন সম্পর্কে সঙ্গীরা ভীষণ একা ও বিষণ্ণ বোধ করেন। একসঙ্গে থাকলেও নিজেদের মধ্যে একটি অদৃশ্য দূরত্ব অনুভব করেন।

এএ