চাকরি ডেস্ক
০৪ মে ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ডিজিটাল দুনিয়ার ক্রমাগত বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইন তথ্যের ঝুঁকি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্বে ৪০০ কোটিরও বেশি ই-মেইল আদান-প্রদান হয়, যার মধ্যে সাইবার হানার কারণে অন্তত ৩০ লাখ ব্যবহারকারী প্রতারণার শিকার হন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ডেটা, সবই এখন ডিজিটাল ভাণ্ডারে জমা হচ্ছে। এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে 'ইনফরমেশন সিকিউরিটি এক্সপার্ট' বা তথ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের চাহিদা।
কারা আসতে পারেন এই পেশায়?
সাধারণত সাইবার সুরক্ষা, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি (IT), সফটওয়্যার সিস্টেম কিংবা ডেটা অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের জন্য এই পেশায় কাজের সুযোগ বেশি। এটি মূলত একটি ‘সিনিয়র লেভেল’ পদ, তাই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা এখানে অপরিহার্য।
প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা
একজন সফল তথ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ হতে হলে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন-
নেটওয়ার্ক ও ডেটা সিস্টেম: নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ডেটা সিস্টেম ম্যানেজমেন্টে দক্ষ হতে হবে।
ক্লাউড সিকিউরিটি: বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ডেটা ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকে, তাই ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল জানতে হবে।
প্রোগ্রামিং ও স্ক্রিপ্টিং: পাইথন (Python) বা জাভাস্ক্রিপ্টের মতো ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে স্ক্রিপ্টিং জানতে হবে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সাজাতে ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণে সাহায্য করে।

অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকার
সাইবার সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো অভিজ্ঞ প্রার্থীদের বেশি প্রাধান্য দেয়। সাধারণত ৩ থেকে ৪ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো মানের প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়া সহজ হয়। তবে চমৎকার পোর্টফোলিও থাকলে নবীনদেরও সুযোগ মিলছে।
তরুণদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
যারা সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছেন, তারা বিভিন্ন প্রজেক্ট বা ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে পারেন। পাশাপাশি পেশাদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিচের আন্তর্জাতিক শংসাপত্র বা সার্টিফিকেটগুলো বেশ সহায়ক:
CompTIA Security+
Certified Information Systems Security Professional (CISSP)
Certified Information Security Manager (CISM)
Systems Security Certified Practitioner (SSCP)
কর্মক্ষেত্র ও আয়ের সুযোগ
আইটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স কোম্পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমানে প্রচুর সিকিউরিটি এক্সপার্ট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দেশের বাজারে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বার্ষিক ৭ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বিদেশের বাজারেও এই বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে অন্তত ৭ বছরের অভিজ্ঞতা ও উন্নত কারিগরি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধার প্রভাবে সাইবার হামলার ধরন দ্রুত পাল্টাচ্ছে। তাই এই পেশায় টিকে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অনলাইন টুল এবং তথ্য সুরক্ষা কৌশল নিয়ে পড়াশোনা ও চর্চা চালিয়ে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: কোন চাকরিতে বেতন সবচেয়ে বেশি?
অনলাইন নিরাপত্তা কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাই যারা চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন এবং প্রযুক্তির সুরক্ষায় আগ্রহী, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি উজ্জ্বল ক্যারিয়ার।
এজেড