images

সাক্ষাৎকার

কদমতলী-শ্যামপুরকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

মহিউদ্দিন রাব্বানি

১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

বরিশালের চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনের উন্নয়ন, নাগরিক প্রত্যাশা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন এই রাজনীতিক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ঢাকা মেইলের নিজস্ব প্রতিবেদক মহিউদ্দিন রাব্বানি।

ঢাকা মেইল: কেমন চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: আমি ২০১৮ সালেও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ঢাকা-৪ আসনে নির্বাচন করেছি। এই আসনে আমাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। আমার দাদা মাওলানা ইসহাক সাহেব প্রায় ১০০ বছর আগে শ্যামপুর বাজারে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। আমার বাবা ও দাদা এই এলাকায় বহু দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ফলে এখানকার মানুষ ধর্মভীরু পরিবেশে বড় হয়েছেন এবং ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেন।

প্রস্তুতির বিষয় তিনি আরো জানান, শ্যামপুর ও কদমতলী মিলিয়ে ৯টি ওয়ার্ডে পুরুষদের পাশাপাশি আমাদের নারীদের ৪০টি টিম সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী কাজ করছে। প্রচারণায় আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাল্লাহ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারব। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

ঢাকা মেইল: সরকার গঠন করলে কেমন রাষ্ট্র গড়তে চান?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: আমরা আদর্শ ও চরিত্রের জায়গা থেকে কথা ও কাজের মিল রেখে রাজনীতি করি। আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ অনুসরণ করে ইসলামী তাহজিব-তামাদ্দুন সমৃদ্ধ একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চাই। যেখানে দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও ধর্ষণের কোনো স্থান থাকবে না।

ঢাকা মেইল: দেশকে উন্নত করতে কী করা উচিত বলে মনে করেন?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নৈতিক, ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষার সমন্বয় থাকবে। এতে একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করবে-নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বৈষয়িক দক্ষতা নিয়ে। ফলে দেশ ও বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

ঢাকা মেইল: ১১ দলীয় জোটের বিষয়ে কিছু বলেন?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: আগে আমরা ৮টি দলে ছিলাম, পরে এনসিপিসহ কয়েকটি দল মিলে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়। এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি জোট ভাঙবে না। যে সিদ্ধান্ত সবার জন্য কল্যাণকর হবে, সেটিই হবে। আমরা চাই সম্মিলিতভাবে এক বাক্সে নির্বাচন হোক। জামায়াতসহ সব দল উদার মন নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে আশা করছি। প্রয়োজনে আসন ছাড় দিয়েও জোট টিকিয়ে রাখতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

ঢাকা মেইল: ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে আপনার নাম কী চূড়ান্ত?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: এই আসন নিয়ে আগেই দলীয়ভাবে আলোচনা হয়েছে। আমি যেহেতু দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শীর্ষ নেতা, তাই দল আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। এমনকি জামায়াতের নেতারাও বলছেন এটি মাদানী সাহেবের আসন।

ঢাকা মেইল: জামায়াত কী আপনাকে সহযোগিতা করছে?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তাই আমি ও আমার টিম নিজ উদ্যোগে মাঠে কাজ করছি। ঘোষণা এলে ১১ দলের সবাই একযোগে মাঠে নামবে। আমার জন্য সবাই কাজ করবে-এটি হবে জোটের সিদ্ধান্ত। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও জামায়াত আমার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। ইসলামী দলগুলোর জোট হলে দেশে নীরব ব্যালট বিপ্লব ঘটবে। ইনশাল্লাহ ইসলামপন্থীদের বিজয় হবে। এজন্য আমরা চাই জোট অটুট থাকুক।

ঢাকা মেইল: ঢাকা-৪ আসন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: শ্যামপুর-কদমতলী অঞ্চলে কারা চাঁদাবাজি করে জনগণ তা ভালোভাবেই জানে। আমরা মাদক নির্মূল, দলবদ্ধ সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং গ্যাস সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেব। একটি বিষয় পরিষ্কার যে নেতা লোভ-লালসা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, সে সমাজের কোনো উপকার করতে পারে না। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে মানুষ অনেক কিছু দেখেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে। তারা সৎ, যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব চায়।

আমাদের মূল লক্ষ্য হবে জলাবদ্ধতা নিরসন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া এবং মাদকমুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, খুন-খারাবির বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করে তরুণদের কাউন্সেলিং করা হবে, যেখানে সমাজের সৎ ও প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরো জানান, উন্নয়নের অগ্রাধিকার থাকবে জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্যাস সংকট সমাধান, রাস্তাঘাট মেরামত ও নির্মাণ, সামাজিক পরিবেশ উন্নয়ন, হাসপাতাল, কলেজ ও খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে কদমতলী-শ্যামপুর এলাকাকে একটি শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

ঢাকা মেইল: নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী: প্রত্যেক প্রার্থীই নিজ নিজ আদর্শ ও প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। কে যোগ্য আর কে অযোগ্য-তা জনগণই নির্ধারণ করবেন।

এমআর/এমআর