মোস্তফা ইমরুল কায়েস
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
রাজধানীর অপরাধ পরিসংখ্যানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মোহাম্মদপুর অঞ্চল। এটি কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধের অভয়ারণ্য। ঢাকা-১৩ আসনভুক্ত এলাকাটির জনগণের একান্ত প্রত্যাশ্যা- সব ধরনের অপরাধ থেকে যেন এলাকাটি মুক্ত হয়। আর সেজন্যই এবারের নির্বাচনে এই এলাকা থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ববি হাজ্জাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর অঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন। ভোটের পরিবেশ, নির্বাচনি এলাকা নিয়ে ভাবনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ঢাকা মেইলের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোস্তফা ইমরুল কায়েস।
ভোটের মাঠে স্থানীয় লোকজনের কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে ববি হাজ্জাজ ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি নির্বাচনি প্রচারে নামার পর থেকে বিরোধী কণ্ঠগুলো অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তারা এখনো আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তবে তাদের প্রশ্নবিদ্ধে জাতির কিছু আসে যায় না। জাতি এখন নির্বাচনমুখী।
তবে তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন। বলেন, এই যতগুলো নির্বাচন কমিশনের সাথে আমার নিজের ইন্টারেকশন, অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার ভেতর সবচেয়ে দুর্বল নির্বাচন কমিশন এটা। মানে এর আগে অনেক ছিল যেগুলো খুব খারাপ ছিল, কিন্তু দুর্বল ছিল না। এজন্য এই নির্বাচন কমিশন থেকে খুব বেশি কিছু আশা করি না। তারা শুধু মিনিমাম একটা মানের নির্বাচন উপহার দিলেই জাতি ভালো নির্বাচন পাবে।
ববি হাজ্জাজ জানান, সত্তরের দশক থেকে ঢাকায় বেড়ে ওঠায় এই আসনটি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া এলাকাগুলো তার অতি পরিচিত। এই এলাকাগুলো ইন্টারনাল রাজনীতির কিছু ফ্যাক্টরস, এলাকাভিত্তিক নেতৃবৃন্দ থাকতে পারে, কিন্তু সেগুলো ভোটের মাঠে তেমন কোনো ঝামেলা তৈরি করবে না বলে মনে করেন তিনি।
এই আসনে তার বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং জামায়াতসহ এগার দল সমর্থিত প্রার্থী। মামুনুল হকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসী চেনেন এরকম ক্যান্ডিডেট মোটামুটি দুজন আছেন। আমি ধানের শীষের পক্ষ থেকে আর মামুনুল হক রিকশা মার্কার পক্ষ থেকে। আরও প্রার্থী আছেন। তবে বাকিদের যতদূর জানতে পেরেছি এলাকাবাসী খুব বেশি চেনেন না। তবু চিনতে কতক্ষণ? ভালো কাজ করতে পারলে নিশ্চয়ই তাদেরও চিনবেন। তারাও সম্পৃক্ততা পাবেন জনতার। আমি সবাইকে খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছি। তবে আমি কনফিডেন্টলি আমার কাজ করে যাচ্ছি।
অপরাধপ্রবণ এই আসনটিতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে নির্বাচিত হয়েই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে চান ববি হাজ্জাজ। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের কর্মে যুক্ত করে বেকার সমস্যার সমাধানের কথাও জানান। মোহাম্মদপুর অঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করাই তার প্রধান টার্গেট। অপরাধ দমনে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগেই একটি অ্যাপস তৈরি করছেন। যাতে পুরো আসনের বিভিন্ন এলাকার চিত্র আসবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা যাবে সেখানে। ফলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও ধরার সহজ হবে। যার এক্সেস থাকবে পুলিশের হাতে।
আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, আগে যারা অপরাধী ছিল তারা একটি দলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছিল। কিন্তু সেই ছায়া সরে গেছে। এখন এলাকার হটস্পটগুলো ইন পেট্রোলিং করা, পুলিশকে আরও জোরদার ইন পুশ করা, জিরো টলারেন্স নিয়ে আসা আমার পরিকল্পনায় রয়েছে।
ববি বলেন, আমরা সরকারি দায়িত্বে এলে মাদকের জিরো টলারেন্স, তরুণদের কর্মক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করা এবং ওভারঅল এলাকাগুলোকে আরও এলাকাবাসীবান্ধব করব। তাহলে আমরা বিশ্বাস করি এই জিনিসগুলো অনেকাংশে কমে আসবে।
ধানের শীষের এই প্রার্থী জানালেন, তার নির্বাচনি পরিকল্পনায় খাবার পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেতু, ব্রিজ ও কালভার্টসহ রাস্তাঘাটের সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আমার একটাই মেসেজ, আর তা হলো মোহাম্মদপুর বাংলাদেশে যে কুখ্যাত মডেল হিসেবে পরিচিত পেয়েছে, এটিকে ভেঙে সঠিক মডেল হিসেবে শিগগির রূপান্তর করতে চাই। এজন্য মোহাম্মদপুরবাসীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান এই প্রার্থী।
এমআইকে/জেবি