আমিনুল ইসলাম মল্লিক
৩০ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:২৭ পিএম
সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সেলিম। তিনি এই বারেরই প্রয়াত সিনিয়র সদস্য প্রয়াত মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকের সুযোগ্য উত্তরসূরি। মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নামকরা সিভিল আইনজীবী ছিলেন। প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সিরাজগঞ্জ ল’ কলেজ। দায়িত্ব পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল হিসেবে। ৯ ছেলে মেয়ের মধ্যে তিনজন আইনজীবী। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম সেলিমও অন্যতম।
ঢাকা মেইল: কেমন আছেন?
অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সেলিম: আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।
ঢাকা মেইল: সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন বারের জন্য কী কী কাজ করতে চান?
অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সেলিম: মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া, আমি এবারের নির্বাচনে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। আমার দায়িত্ব থাকবে এক বছর। এই এক বছরে আমি আইনজীবীদের পেশাগত মান উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাবো। বিশেষ করে আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে যেন শৃঙ্খলা থাকে। বিচার প্রার্থীরা যাতে করে ন্যায় বিচার পায়। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুসম্পর্ক ধরে রাখাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করে যেতে চাই।
ঢাকা মেইল: আপনাদের বারে সদস্য সংখ্যা কত? নারী আইনজীবীদের আলাদা সুযোগ-সুবিধা আছে কি না?
রফিকুল ইসলাম সেলিম: আমাদের এই আইনজীবী সমিতির সদস্য প্রায় ৫০০ জন। এদের মধ্যে আমাদের বোনেরাও আছেন। তাদের জন্য আলাদা কমনরুম আছে। তারা ওখানে তাদের ব্যাক্তিগত বিভিন্ন প্রয়োজন সেরে নিতে পারেন। তাদের ওখানে জায়গা আছে। নারী সদস্যরা ওখানে নিয়মিতভাবে নামাজ আদায়, দুপুরের খাবার, বাচ্চাদের দুধ পান করানোসহ নানাবিধ প্রয়োজনীয় কাজ করে নিতে পারেন। তবে তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করি।
ঢাকা মেইল: আইনজীবীদের পেশাগত মান উন্নয়নে কী কী ধরনের কাজ করে যেতে চান?
রফিকুল ইসলাম সেলিম: এ পেশাটা হচ্ছে গুরুবিদ্যা পেশা। এখানে প্রচুর শিখতে হয়। সিনিয়রের কাছে শিক্ষা নিতে হয়। কেউ চাইলে রাতারাতি ভালো আইনজীবী হতে পারেন না। লেগে থাকতে হয়। প্রচুর পড়তে হয়। আমার চিন্তা সুযোগ্য সিনিয়রদের নিয়ে আইনজীবীদের পেশাগত মান উন্নয়নে বারের সাধ্য সামর্থ্য অনুযায়ী ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।
ঢাকা মেইল: বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণের জন্য কী করতে চান?
রফিকুল ইসলাম সেলিম: আমি সবসময়ই ন্যয় বিচারের পক্ষে। কারণ মানুষ সব দরজা শেষ করে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে আসেন। আইনজীবীদের কাছে আসেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব। আমি যেহেতু সাধারণ সম্পাদক নির্বোচিত হয়েছি। তাই চেষ্টা করবো সাধারণ ভুক্তভোগী বিচারপ্রাপর্থীর জন্য কাজ করব এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব।
ঢাকা মেইল: আপনার বাবা সিরাজগঞ্জ বারের জন্য অনেক কিছুই করেছেন, আপনি বাবার পথেই হাটতে চান কি?
রফিকুল ইসলাম সেলিম: আমার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক সাহেব ছিলেন এই বারের সিনিয়র সদস্য। আমার যতটুকু মনে পড়ে বাবা সাতবার সাধারণ সম্পাদক ও আটবারের মতো সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেওয়ানী বিষয়ক মামলায় প্রতিথযশা আইনজীবী ছিলেন। আইনজীবী হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলাসহ দেশব্যাপী তার একটা ভালো ডাকনাম ছিল। বাবা বিচারপ্রার্থীদের জন্য, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আমার বাবা সিরাজগঞ্জ ল’ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতিষ্ঠাতা পিন্সিপাল ছিলেন। তার হাতেগড়া অনেক ছাত্র আইন পেশায় ভালো করছেন। আমরা তিন ভাই আইনজীবী হয়েছি। আমি এবং রুহুল আমিন ছিদ্দিক খসরু সিরাজগঞ্জ বারে এবং রেজাউল করিম সিদ্দিক ঢাকা বারে ওকালতি করে।
আমার ছয় বোন। দুই বোন জামাই আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বাবা আইন অঙ্গনের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন। আমিও বাবার মতো আইনাঙ্গনে গুরুত্ব পূর্ণ কিছু কাজ করে যেতে চাই। দোয়া করবেন।
এর আগে গত বুধবার সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপির ১২পদ ও সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ পদে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বুধবার ১৭টি পদের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিএনপি ও জামায়াতপন্থীরা বিজয় অর্জন করেন। বিকেলে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বারের বিদায়ী সভাপতি আলহাজ্ব কায়সার আহমেদ লিটন।
সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট কায়সার আহমেদ লিটন সাংবাদিকদের জানান, ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৩০ জানুয়ারি এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তফসিল অনুযায়ী ১৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ১৭টি পদের বিপরীতে ৩টি পদ ছাড়া বাকি ১৪টি পদে একটি করে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়। ২২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান কামাল (জাপা), সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ (বিএনপি) ও অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ) এবং ক্রীড়া ও সাস্কৃতিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মুজাহিদ বিন রহমান মিঠুন (জাপা) মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করে নেন।
এ অবস্থায় ১৭টি পদে সবাই একক প্রার্থী হওয়ায় অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার (বিএনপি) ও অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সেলিম (জামায়াত) সমর্থিত রফিক-সেলিম একক প্যানেলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
এআইএম/ইএ