আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ এপ্রিল ২০২৩, ০২:৫৫ পিএম
পৃথিবীতে প্রতি বছর নতুন করে বাড়ছে ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার মরুভূমি। এটি আয়ারল্যান্ডের আয়তনের সমান। অবহেলা আর বন উজাড়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে উর্বর ভূমি, নতুন করে মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে বহু এলাকা। এমন তথ্য জানিয়ে ২০১৯ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। সেটি ঢাকামেইলের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
এক সময় সাহারা মরুভূমিতে বসবাস ছিল জলহস্তি আর হাতির। এখন সেখানে প্রাণী কমই বাঁচে। হাজার হাজার বছর আগে বৃষ্টিপাতের ফলে এমন একটি জলধারা সেখানে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন তা সুদূর অতীত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেখানে বালি এলাকা বাড়ছে। মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে তা ঠেকানো যাচ্ছে না।
উর্বর ভূমিকে মরু এলাকায় রূপান্তরের নাম মরুকরণ। প্রায়শই এর জন্য দায়ী মানুষ। যখন মানুষ পানির মতো প্রাকৃতিক সম্পদকে চুষে নেয়, তখন জমির উর্বরতা হারায়। পৃথিবীর ৭০ শতাংশ উষ্ণ এলাকার মানুষের মধ্যে রয়েছে এমন প্রবণতা।

প্রতি বছর নতুন করে বাড়ছে ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার মরুভূমি, যা আয়ারল্যান্ডের আয়তনের সমান। জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এর হিসাব বলছে, আফ্রিকার ৪০ শতাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করেন, যা মরুকরণের হুমকির মুখে রয়েছে। আর এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩৯ ও ৩০ শতাংশ। জামার্নি, যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনের মতো দেশও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি মরু এলাকা বাড়ার একটি কারণ। যেমন চীনের ভূমি ব্যবহার হয় মানুষের খাবার নিশ্চিতের জন্য। শেষ উদ্ভিদটি পর্যন্ত খাওয়ার জন্য কৃষকেরা পশুপালন করে থাকেন। মাটি আলগা হয়ে যায় এবং ক্ষয়ে যায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে। এভাবে চীনে প্রতি বছর আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটার মরুভূমি তৈরি হয়।

ব্যর্থ অর্থনৈতিক নীতির কারণে মরুভূমির রূপ ধারণ করেছে কাজাখাস্তান ও উজবেকিস্তান সীমান্তের হ্রদ উরাল সি। এক সশয় চতুর্থ সর্ববৃহৎ এই হ্রদের অল্প একটা অংশ অবশিষ্ট আছে। সোভিয়েত আমলে দুই দেশই তুলা ক্ষেতের জন্য এখানকার বড় অংশের পানি ব্যবহার করে। মাছ ধরার নৌকা এখন সাগরের মাঝে আটকে থাকে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও মরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পর্যটকের আবাসন নিশ্চিত করতে স্পেনে কিছু এলাকার বন পুরোপুরি উজাড় করা হয়। এর মধ্যে মাদ্রিদের গুয়াদালাজারা এলাকাবড় রকমের হুমকির মুখে রয়েছে।

মরুকরণের ফলে পানি আর চাষের জমির সংকট তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বহু এলাকায় ঘরবাই ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। জিআইজেড এর হিসাব বলছে, আফ্রিকার ৪৮৫ মিলিয়ন (৪৮ কোটি ৫০ লাখ) মানুষ মরুকরণের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কোটি কোটি মানুষ এসব এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে।
মরুকরণের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বিভিন্ন দেশ। কয়েক দশক ধরে বনায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি পাল্টানোর চেষ্টা করছে চীন। ১৯৭৮ সালে নেওয়া গ্রেট গ্রিন ওয়াল প্রকল্পের আওতায় দেশটি এমন বনায়ন করছে যে, ২০৫০ সালে সেটি জার্মানির আয়তন ছাড়িয়ে যাবো।
একে