images

আন্তর্জাতিক

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত তুরস্কে ২০,০০০ মানুষের খাবার রান্না করছেন যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:৩৭ পিএম

তুরস্কের ভূমিকম্পবিধ্বস্ত কাহরামানমারাস প্রদেশে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি মানুষের খাবার রান্না করছে একটি বেসরকারি সংস্থা। এ অলাভজনক সংস্থাটি বিশ্বের যেসব স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয় সেখানে কাজ করে থাকে। এ বৈশ্বিক সংস্থাটির নাম ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন। 

অলাভজনক এ সংস্থার এক কর্মকর্তা ব্র্যাক ওয়াটার্স জানিয়েছেন, ‘একটি (বৈশ্বিক) সংস্থা হিসেবে আমরা সারা বিশ্বে আমাদের কার্যক্রম চালাই। বিশেষ করে যেখানে কোনো সংকট দেখা দেয়, সেখানেই আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নেই। তুরস্কে ভূমিকম্প হয়েছে এমন খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিমানে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূলত, ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাওয়ানোর জন্য আমরা এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ওয়াটার্স বলেন, ‘তারা কাহরামানমারাসের এলবিস্তান জেলায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার লোকের জন্য খাবার তৈরি করেন’। তিনি আরও জানান, তারা তিন থেকে চার মাস এই এলাকায় থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করেছেন। তবে প্রয়োজন পড়লে তারা সেখানে আরও বেশি সময় থাকবেন।

ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘অভাবী লোকদের সাহায্য করাই তাদের কাজ ও নেশা। এটা তাদের জন্য একটি বড় আবেগের বিষয়।’

ব্র্যাক ওয়াটার্স জানান, এলবিস্তান জেলার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তারা এখানকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন পণ্য কিনেছেন।

তুর্কি আতিথেয়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের লোকেরা তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করে।

৬ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ তুরস্কে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৪৪,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর ফলে দেশটির ১১টি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে সিরিয়ায় ওই ভূমিকম্পে ৫,৯১৪ জন মারা যান।

সরকারি তথ্য অনুসারে, এ ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরে ৯ হাজারের বেশি আফটারশক হয়েছিল এবং তুরস্কের এক লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় ২০ লাখ লোক গৃহহীন হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার উদ্ধারকর্মী তুরস্কের ১১টি ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত প্রদেশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় প্রাথমিকভাবে প্রবেশ করা কঠিন ছিল। কিন্তু তারপরেও বর্তমানে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জীবিতদের উদ্ধারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এমইউ