Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

টোঙ্গার আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের হিরোশিমার চেয়েও ৫০০ গুণ শক্তিশালী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৪৪ এএম

টোঙ্গা দ্বীপপুঞ্জের হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাপেই আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের তীব্রতা ১০ মেগাটন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতূল্য। যা জাপানের হিরোশিমা শহরের আনবিক বোমা বিস্ফোরণের প্রায় ৫০০ গুণ অধিক শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের গবেষক জেমস গার্ভিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্যাটেলাইটের ইনফ্রারেড সেনসরে ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায় পুকুরে ঢিল ছুঁড়লে যেমন তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, হাঙ্গা টোঙ্গার বিস্ফোরণের ফলে তেমনি তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল। তরঙ্গের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা কয়েক মিনিট ধরে স্থায়ী ছিল। এবং উত্তর আমেরিকা, ভারত, ইউরোপ সহ বিশ্বের একাধিক প্রান্তে সেই তরঙ্গের রেশ মিলেছে। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্টি হওয়া তরঙ্গ ৩৫ ঘন্টা পরে তার উৎসস্থলে ফিরে আসে। এই তরঙ্গের ফলে তৈরি হওয়া সুনামি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম তটেও আঘাত করে এবং তারফলে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ভূতত্ত্ববিদদের অভিমত, এই বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হওয়া শক্তি তরঙ্গের মাধ্যমে প্রায় গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। যার প্রভাবে বায়ুমণ্ডল বা অ্যাটমোস্ফিয়ার একটি ঘন্টার মতো দুলে উঠেছিল। ১৮৮৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাটোয়া আগ্নেয়গিরিতে প্রথম এই ধরনের  বিস্ফোরণের দেখা যায়।

১৬ জানুয়ারি প্রশান্ত মহাসগারের টোঙ্গা দ্বীপপুঞ্জে সাগরের তলদেশের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামির আঘাতের ঘটনা ঘটে। শুরু হয় লাভা, গ্যাস ও ছাইয়ের উদ্গীরণ। স্যাটেলাইট ইমেজ দেখা যায়, টোঙ্গার নমুকা, কোলোমোতুয়া, টোঙ্গাটাপু, ফাফা ও কোলোফৌ দ্বীপ সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে আগ্নেয় ছাইয়ের পুরু স্তরে। ভূমিকম্পের প্রভাবে ফলে সৃষ্ট সুনামিতে আকস্মিক বন্যা ও জলোচ্ছাসে টোঙ্গার প্রায় সব দ্বীপ ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে পড়ে।