আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
মহাকাশ গবেষণায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে চীন ও পাকিস্তান। চীনের শেনঝৌ-২৪ মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়ে দেশটির তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন একজন পাকিস্তানি পাইলট। এর মাধ্যমে তিনি হবেন চীনের নিজস্ব এই স্পেস স্টেশনে যাওয়া প্রথম বিদেশি নভোচারী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থা (সিএমএসএ) এ ঘোষণা দিয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, শেনঝৌ-২৪ অভিযানে অংশ নেওয়া পাকিস্তানি নভোচারী একজন পেলোড স্পেশালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ মহাকাশযান পরিচালনার পরিবর্তে তিনি মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
সিএমএসএ জানিয়েছে, পাকিস্তানি নভোচারী স্বল্প সময়ের জন্য কক্ষপথে অবস্থান করবেন। এরপর চীনের শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
তবে অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ মিশনটি পরিচালিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, আগামী ২৫ নভেম্বর মহাকাশ অভিযানটি পরিচালিত হতে পারে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এখনো এ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে পাকিস্তানি নভোচারীর নামও এখনো প্রকাশ করেনি চীনের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (সিএনএসএ)। তবে গত এপ্রিলে পাকিস্তানের দুই পাইলট মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদকে নভোচারী প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করে সংস্থাটি।
কয়েক মাস ধরে বেইজিংয়ের চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তারা। তাদের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে মহাকাশ অভিযানের জন্য নির্বাচন করা হবে।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দুই পাইলটকে মহাকাশযানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কার্যক্রম, মহাকর্ষহীন পরিবেশে কাজ করার কৌশল, উচ্চমাত্রার জি-ফোর্স সহ্য করা এবং চীনা ভাষা শেখানো হয়েছে।
গত এপ্রিলে দুই পাইলট মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নির্বাচিত হওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
তিনি বলেন, ‘এই মহাকাশ অভিযান সমগ্র জাতির জন্য গর্বের বিষয়’।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের নভোচারীরা অংশ নিলেও চীনের নিজস্ব মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচিতে বিদেশি নভোচারীর অংশগ্রহণের ঘটনা ঘটেনি। তবে চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করেছে।
পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো এবং চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থার মধ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, চীন পাকিস্তানি নভোচারীদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হবে। মহাকাশে গিয়ে পাকিস্তানি নভোচারী দেশটির নির্বাচিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশ নেবেন।
সূত্র: ডন, রয়টার্স
এমএইচআর