Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গোফম্যান ইরানে একটি গোপন অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। ইসরায়েলের নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে তা ভেস্তে যায়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে ইরানের ভূখণ্ডে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেন নেতানিয়াহু ও মোসাদপ্রধান গোফম্যান। 

তবে এই পরিকল্পনায় দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সবাই সমর্থন দেননি। বরং অভিযানটি বাস্তবায়িত হলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হতে পারে এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল তাদের।

চ্যানেল ১২ দাবি করে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও অভিযানটির প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলের কারণে পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানতে পারে। এরপর ওয়াশিংটন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযানটি বন্ধ করে দেয়।

তবে পরিকল্পিত অভিযানটির ধরন, লক্ষ্যবস্তু কিংবা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ দাবি অস্বীকার করেছে। 

কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই সে সময় স্পষ্ট করেছিলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না।’ 

এরআগে গত ২৫ অক্টোবর, অর্থাৎ নির্বাচনের দুই দিন আগে চ্যানেল ১২ জানিয়েছিল, ইরানকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে নজিরবিহীন বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, নেতানিয়াহু ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু জামির এ বিষয়ে আপত্তি জানান এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে আরও আলোচনা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে লিখিত আইনি অনুমোদন চান। 

পরবর্তী সময়ে চ্যানেল ১২ ও ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন জামির। 

এমনকি নেতানিয়াহু পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারলে জামিরকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে নেতানিয়াহু ও কাটজ এসব খবর অস্বীকার করেছিলেন। 

চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প আপাতত তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও সময় দিতে চান।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল 

এমএইচআর